
রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে মারধরের ঘটনার পর তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'আস্থা পোশাক শিল্প' খুলতে না দেওয়া ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদ ও মারধরের ঘটনায় জরিতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাকিয়া সুলতানা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আম্রকানন চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জাকিয়া সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের (কাপড় বাজার) প্রথম নারী দোকানমালিক তিনি। ২০১২ সাল থেকে তিনি কাপড় বাজারে ব্যবসা করছেন। তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমানে অনেক নারী কাপড় বাজারে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবার কোনো কর্মচারী চলে যাওয়ার সময় আমাকে হেনস্তা করা হয়। এর প্রমাণ আগের থানায় করা অভিযোগ। সাবেক কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টির বিষয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, বৃষ্টি মেয়েটি একদমই কাজ জানত না। তার তিন বাচ্চার অসহায়তার কথা বলে আমার কাছে কাজ চায়। এমনকি এটাও বলে সে পাঁচ বছর কাজ করবে। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। দুই মাস আগে তার বেতনও বাড়িয়েছি। কিন্তু যখনই জানতে পারলাম সে অন্য দোকানে ১ তারিখ থেকে নিয়োগ হয়েছে, আমি নিজেই তাকে কাজে আসতে মানা করি। ভয়েস মেসেজে বলে দিই, পরের মাসের ১০ তারিখে এসে বেতন নিয়ে যেতে। জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, গত ২৩ তারিখ রাতে ১২ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টি তার দোকানে অবৈধভাবে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বেতন আদায় করতে আসেন। এ ঘটনার সবকিছু তার দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জাকিয়া বলেন, এখন আপনারাই বলেন, এ পর্যায়ে আমার কী করণীয় ছিল? অবশ্যই বাজার কমিটিতে জানাব এবং এর বিচার চাইব। কিন্তু মজার বিষয় হলো, কমিটির কিছু লোক উল্টো আমাকে হুমকি দিয়ে যায়, যাতে আমি থানায় অভিযোগ না করি। করলে নাকি এখানে ব্যবসা করতে দেবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কমিটি সমাধান দেবে না, থানাতেও যেতে দেবে না, তাহলে আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিচারের জন্য কোথায় যাব? আমার তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কি সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছি না? তাহলে সরকার আমাকে কী দিচ্ছে? থানায় ওসির সামনে আমাকে রাত ১২টা পর্যন্ত জিম্মি করে রাখে, জোর করে মুচলেকা নেয়। এটা কোন বাংলাদেশ? এমনকি আমাকে সংবাদ সম্মেলন করতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। যে কারণে সংবাদ সম্মেলন আমার বাসায় করার কথা থাকলেও বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করছি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকিয়া সুলতানা বলেন, তার নামে বৃষ্টি যে অভিযোগ ছড়িয়েছেন, সে বিষয়ে ঢাকা পুলিশের ডিআইজি তদন্ত পরিচালনা করেছেন। তার দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ডিআইজি, সিআইডি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার কাজের পরিবেশ ও উদ্যোক্তা হিসেবে অবদানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের তদন্তে সত্য উদ্ভাসিত হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কেন আমার দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে? আমার কর্মচারীদের রুজি-রোজগার বন্ধ, আমার তৈরি করা পোশাকসামগ্রী দোকানে আটকে থেকে নষ্ট হচ্ছে।