ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গাজীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

গাজীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই গাজীপুরে জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়। কর্মসূচির ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থেকে গাজীপুরেও এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ঢাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গাজীপুর মহানগরীর শ্মশানঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া, সিভিল সার্জন মামুনুর রশিদ, তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়, এডিসি শিক্ষা রাকিব হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কাউট, বিএনসিসি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঞা সরাসরি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তাদের অংশগ্রহণে মহানগরীর শ্মশান মন্দির, শ্মশান মোড়, রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড় এলাকায় এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অথিতিবৃন্ধ ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। একইসঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হয়।

এ সময় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরো জেলার আনাচে-কানাচে জমে থাকা সমস্ত বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে রাখতে হবে। তিনি বলেন, জিএমপির সকল ইউনিট আজ থেকে এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ডেঙ্গু যাতে আর না বাড়ে সে জন্য আমরা গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৫৭টি ওয়ার্ড ও ৮টি জোনে কাজ করছি। জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমরা ডেঙ্গ কোথায় কীভাবে জন্মায় সে বিষয়ে সচনেনতা বাড়াতে কাজ করছি। এডিসের লার্ভা নিধনে আমরা স্প্রে ও অন্যান্য ওষুধ ছিটানোর কাজ করছি। সকলের অংশ গ্রহণে আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা সফল হবো।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত