
হাতে কাজ নেই, সারাদিন বসে আছি। বর্তমানে ভবন নির্মাণে কাজ বেশি, তাই জোয়ান (যুবক) শ্রমিক খুঁজে কন্ট্রাক্টররা। আমাদের মতোই একটু বয়স লোকদের নিতে চায় না। তাই কৃষিকাজ বা বড়লোকদের বাড়িতে দিনমজুর করে থাকি। এই কাজ তো প্রতিদিন হয় না তাই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে আমাদের। কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামে হাটহাজারী পৌর ডাক বাংলো এলাকায় শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হওয়া উত্তরবঙ্গ রংপুর সদরের হরিদেব পুর ইউনিয়নের মৃত বাহার খন্দাকারে পুত্র পুত্র জামিউল খন্দাকার হক (৬৫)। প্রতিদিন পৌরসদরস্ত ডাক বাংলা এলাকায় এই মানুষ বেচা-কেনার এই দৃশ্য দেখা যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ হতে শত শত মানুষ পেটের তাগিদে এসে ভিড় করে এখানে। কাজ পেলে তাদের মুখে হাসি ফুটে আর না পেলে মলিন মুখে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী দিনের জন্য। জামিউল এই প্রতিবেদককে আরও বলেন, পাঁচদিন আগে এক গৃহস্থের চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করলেও এখনও নতুন কাজ পায়নি। পাঁচদিন কাজ করে যে পারিশ্রমিক পেয়েছি তা থাকা খাওয়ায় প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। দেশের বাড়িতে স্ত্রী সন্তান রেখে নগদ টাকার জন্য এই জায়গায় আসা।
কথা হয় দিনাজপুরের খালেক (৬৫), ফটিকছড়ি বিবিরহাটের মো. ফয়সাল (২২), মাইজদি নোয়াখালীর জানে আলম (৭৫), স্বন্দ্বীপ এলাকার তাজুল (৪০) এর সাথে। প্রায় সকলেই পেটের দায়ে হাটহাজারীর এই জায়গাটিতে এসেছেন কৃষি ক্ষেতে দৈনিক কিংবা চুক্তিতে কামলা হবে বলে। অনেকে ঘরের চাল তৈরী, গাছ কাটা, রাজমিস্ত্রি, মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবেও কাজ করতে জড়ো হোন এ হাটে। তবে বেশির ভাগ শ্রমিক কৃষিকাজ করতেই অভ্যস্থ। কেন এ বয়সে এমন ভারী কাজ করেন জানতে চায়লে নোয়াখালী থেকে আসা ৭৫ বছর বয়সের জানে আলম ক্ষোভের সুরে বলেন, ভাতা কি গরীবদের জন্য! ভাতাই যদি পেতাম তাহলে এই বয়সে পা ভাঁঙ্গা নিয়ে আপনাদের এলাকায় আসতাম না। চোখের কোণে জল নিয়ে বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মানুষের কামলা দিচ্ছি কই কোন মেম্বার চেয়ারম্যান কখনও আমাদের খবর নেয়নি।