ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজবাড়ীতে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীতে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীতে বিকাশ প্রতারণা চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন— ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মটরা গ্রামের মৃত এরফান মাতুব্বরের ছেলে চাঁন মিয়া এবং একই গ্রামের রোকন মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ। তিনি জানান, বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি বাটন ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোন্নাফ শেখের ছেলে মো. হুসাইন শেখ ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেন। প্রতিদিন তিনি রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরে যাতায়াত করেন।

গত বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোন্নাফ শেখ রাজবাড়ী সদর থানাধীন মাটিপাড়া বাজারের চার রাস্তার মোড়ে অবস্থানকালে ০১৩৫০৭৯৯৯০৮ নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তার ছেলে হুসাইন শেখ ও তার দুই বন্ধুকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় কলদাতারা তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার ছেলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন। মোন্নাফ শেখ ছেলের কথা চিন্তা করে তিনি কথিত ওই ব্যক্তিদের দাবিতে সম্মত হন। পরে টাকা পাঠানোর জন্য তাকে ০১৮৩৪২৭৫২১৩ নম্বরের একটি পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট দেওয়া হয়। পরে মোন্নাফ শেখ আলাদিপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে সব মিলিয়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে ফিরে মোন্নাফ শেখ দেখতে পান, তার ছেলে হুসাইন বাড়িতেই রয়েছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। পরে তিনি থানায় এসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ওসি উত্তম কুমার ঘোষ, সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কেউ ফোন করে গ্রেপ্তার, মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা চাইলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই টাকা পাঠানো উচিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত