
ময়মনসিংহের নান্দাইলের মুশল্লী ইউনিয়নের চপইর গ্রামে পুরো পরিবারকে ঘরে আটকে রেখে কৃষক জামাল মিয়ার ৫টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোর চক্র। পরবর্তীতে স্থানীয় হাটে নিজের চুরি যাওয়া ৩টি গরুর সন্ধান পেলেও বাজার কমিটি ও মাতব্বরদের চাপে ৯৪ হাজার টাকা দিয়ে নিজের গরু নিজেই কিনতে বাধ্য হয়েছেন ওই ভুক্তভোগী কৃষক।
অন্য দুটি গরুর এখনও হদিস মেলেনি। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জামাল মিয়া জানান, গত শনিবার গভীর রাতে চোরেরা তার মুদির দোকান এবং ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে নির্বিঘ্নে গোয়াল ঘর থেকে ৫টি গরু নিয়ে যায়। পরদিন সকালে তিনি নান্দাইল থানায় জিডি করেন। ওই দিন বিকালেই স্থানীয় চকমতি মেরেঙ্গা বাজারের গরুর হাটে এক পাইকারের কাছে নিজের ৩টি গরু শনাক্ত করেন জামাল। কিন্তু পাইকার দাবি করেন, তিনি গরুগুলো ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় কিনেছেন। এ নিয়ে গত রোববার রাতে বাজারে দীর্ঘ দেনদরবার শেষে মাতব্বরেরা রায় দেন— পাইকার যেহেতু টাকা দিয়ে কিনেছেন, তাই জামাল মিয়াকে অর্ধেক মূল্য (৯৪ হাজার টাকা) দিয়ে গরু নিতে হবে।
সহায়-সম্বল হারানো কৃষক জামাল মিয়া বাধ্য হয়ে নিজের গরু টাকা দিয়েই ফেরত নেন। জামাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানায় জিডি ও হাটে গরু শনাক্তের পর পুলিশকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। চোরের বিচার পাওয়ার বদলে উল্টো নিজের গরুর জন্য টাকা গুনতে হলো। এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে একজন এসআইকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া গরুগুলোর ব্যাপারে বাজার কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলায় পরে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।