ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে শীতের শুরুতেই অতিথি পাখির কলরব

সিরাজগঞ্জে শীতের শুরুতেই অতিথি পাখির কলরব

শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শস্যভাণ্ডারখ্যাত তাড়াশ উপজেলার উলুপুর দীঘির পাড়ে গাছে গাছে এখন পরিযায়ী পাখির কলরব। পাখিদের এই দৃশ্য দেখতে পড়ন্ত বিকালে দীঘির পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থী ও পাখিপ্রেমীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার উলুপুর দীঘি ছাড়াও রয়েছে ঐতিহাসিক চলনবিল। এ বিলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির জন্য পর্যাপ্ত খাবার থাকায় এবারও দেখা মিলছে হাজার হাজার অতিথি পাখির। শীতকালে যমুনা ও চলনবিলসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন খাল-বিলে বক, বদর, লালমোন, সোলি, শামুকখোল, বালিহাঁস, কাইয়ুম ও বাগাড়িসহ নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ দেখা যায়। পাখির নানা সুর ও ডাকে মুখর হয়ে ওঠে এসব এলাকা। খাবারের সন্ধানে পাখিরা ডানা মেলে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ায়। ঝাঁকে ঝাঁকে এসব পাখির দেখা মিলছে তাড়াশের খাল-বিলগুলোতে। বিশেষ করে উলুপুর দীঘি যেন এখন পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও অতিথি পাখি এসেছে দীঘির পাড়ে। চলনবিল ও দীঘির পাড়ে শুরু হয়েছে অতিথি পাখির কলরব। পাখিদের এই দৃশ্য দেখতে পড়ন্ত বিকেলে দর্শনার্থী ও পাখিপ্রেমীদের ভিড় জমছে। অনেকেই পাখির দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে সেলফিও তুলছেন। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও পাখিপ্রেমীরা জানান, উলুপুর দীঘির চারপাশের গাছপালা বেশ কিছুদিন ধরে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। পাখিদের দৃশ্য ও আবাসস্থল দেখতে প্রতিদিনই এ এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকালে সব শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। তারা পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতি যখন পাখিদের অনুকূলে থাকে না, তখন তারা অপেক্ষাকৃত কম শীত ও অনুকূল প্রকৃতির দেশে অতিথি হয়ে আসে। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে প্রতিবছর বাংলাদেশে পাড়ি জমায় হাজারো অতিথি পাখি। এসব অতিথি পাখি আকাশসীমা পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে। তারা ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিতে পারে। অনেক পাখি বছরে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। বাংলাদেশে ৭৪৪ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে ৩০১টি প্রজাতি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। এ দেশে অতিথি পাখির আগমন ঘটে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি— এই দুই মাসে বেশি পাখি আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, দীঘিতে শান্ত জলরাশি, অন্যদিকে সবুজের সমারোহ— তারই মধ্যে হাজারো পাখির কিচিরমিচির। শীত কমে গেলে অতিথি পাখিরা আবার নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যায়। খাদ্য ও নিরাপত্তার জন্য তারা এ দেশে আসে।

তিনি বলেন, অসাধু মানুষ এসব পাখি শিকার ও হত্যা করে। এ নিষ্ঠুরতার কারণে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার নিজস্ব রূপ। তাই অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবারই নজর রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত