
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের সারোটিয়াগাজী গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে-অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই, এ কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটির বেহাল দশা।খানাখন্দে ভরা এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন, স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ। অথচ সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন দপ্তিয়র ইউনিয়নসহ আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। বর্তমানে সড়কটি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে, এটি যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা ও গর্তের কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গ্রামীণ এই জনগোষ্ঠীর জন্য চরম দুর্ভোগ ও মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক খারাপ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকার কারণে এলাকার সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে।
সড়কটি করুণ চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী মো.হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার সড়কের এমন বেহাল দশা যে, আত্মীয়-স্বজনরা এখন আর সম্পর্ক করতে চায় না, যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতিতে আত্মীয়তার সম্পর্ক ভেয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দেশের স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরেও এখানে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো.রফিকুল আলম জানান, রাস্তাটি দীর্ঘদিন বেহাল দশাএ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল মেলেনি। আমরা চাই দ্রুত এ সমস্যার অবসান হোক।
এ বিষয়ে দপ্তিয়র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ সিদ্দিকী জানান, সারোটিয়াগাজী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল গ্রাম। চেয়ারম্যান হিসেবে শুরু থেকেই আমি এই সড়কের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে সরাসরি পাকা সড়ক করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে রাস্তাটি স্থায়ীভাবে পাকা করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।