
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন জনপদ বয়ারচরে জোয়ারের স্রোতে সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকটি সড়ক ভেঙে যাওয়ায় খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ৮টি কালভার্ট। ফলে পানির স্রোতে পরিত্যক্ত কালভার্টের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আশেপাশের রাস্তাঘাট ও বাড়ীঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। তারা দ্রুত কালভার্টগুলো সরিয়ে নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয়ারচর এলাকার তেগাছিয়া বাজার সংলগ্ন গাবতলি খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ৮টি পুরাতন কালভার্ট। কালভার্টের দুই পাশে সড়কের কোনও অস্তিত্ব নেই। মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর জোয়ারের পানির স্রোতে কালভার্টের দুপাশের সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হয়। বর্তমানে খালের মাঝখানে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত কালভার্টগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। কালভার্টগুলো খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে সংযোগকারী কোন সড়ক না থাকায় এগুলো এখন অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করাই এসব কালভার্টগুলো এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত আছে। তবে কালভার্টগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় জোয়ারের সময় পানির স্রোতের ধাক্কা লেগে খালের আশেপাশের বসতি ও রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। রামগতি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা চরগুলোতে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট (সিডিএসপি) প্রজেক্টের আওতায় ২০০৭ সালে বয়ারচরের গাবতলি খালের বিভিন্ন স্থানে মোট ৮ টি শক্তিশালী কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি কালভার্টের ব্যায় ধরা হয় ৫ লাখ করে মোট ৪০ লাখা টাকা। দীর্ঘ ১৭ বছর কালভার্টগুলো জনগণের উপকারে আসলেও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা পরবর্তীতে নদীর পানির স্রোতসহ নানা কারণে রাস্তা ভেঙে খালে পরিণত হওয়ায় এগুলো এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সিডিএসপি প্রকল্পের কাজ ছিল, চরে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নত করা, জলোচ্ছাস ও নদীভাঙন থেকে চর রক্ষা করতে বাঁধ ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা, চরের জমিতে কৃষিকাজ বাড়াতে সহায়তা করা এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমির মালিকানা বা পর্চা বিতরণ করাসহ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করা। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস সরকার যৌথভাবে সিডিএসপি প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পরিচালনা করতো।
স্থানীয়রা জানান, তেগাছিয়া বাজার সংলগ্ন কালভার্টের পশ্চিম পাশে মোহাম্মদপুর সমাজ, পুর্বপাশে ডাকাইয়া সমাজ। দুই সমাজ ও আশে পাশে ৫টি সমাজ মিলে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। এ মানুষগুলো স্থানীয় তেগাছিয়া বাজার, টাঙ্কি বাজার, ব্রিজঘাট ও রামগতি বাজারে যাতায়াতের জন্য ৮টি কালভার্ট করে সিডিএসপি। স্থানীয় বাসিন্দা জুনাব আলী জানান, এগুলো একসময় মানুষ ব্যবহার করলেও এখন ব্যবহার হয়না। কালভার্টের দুপাশের সংযোগ রাস্তা অনেক আগেই ভেঙে গেছে। খালের মাঝখান থেকে এগুলো সরিয়ে নেওয়া দরকার। আরেক বাসিন্দা মোছলেহ উদ্দিন বলেন, কালভার্টগুলো এখন আমাদের জন্য ক্ষতিকর। পানির স্রোত এসে কালভার্টের সাথে ধাক্কা লেগে আশেপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই দ্রুত সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, কালভার্টগুলো মানুষের কোনও উপকারে আসছে না। এগুলো এখন আমাদের জন্য বিষফোঁড়া। দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, খবর নিয়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেগুলো নিলামের ব্যবস্থা করবেন তিনি।