ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুরে শীতের আগাম সবজি বাজারে, কমেছে দাম

দিনাজপুরে শীতের আগাম  সবজি বাজারে, কমেছে দাম

শীতের আগাম সবজিতে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের বাজার। সরবরাহ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে বিভিন্ন সবজির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে, তবে উৎপাদন খরচ না ওঠার শঙ্কায় চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। শহরের বাহাদুর বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, এ বছর সবজির ফলন ভালো হয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে বাজারগুলোতে শীতকালীন লালশাক, পালংশাক, সবুজ শাক, ঢেঁকিশাক, সরিষা শাক, মুলাশাক, ধনিয়া পাতা, লাউ, লাউশাক, কুমড়া শাক, বরবটি, গাজর, টমেটো, শালগম, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, কাঁচামরিচ, বেগুন, করলা, মিষ্টিকুমড়া, শজিনা, মরিচ, কাঁচাকলা, পেঁপে, বিটরুট, ক্যাপসিকাম ও ডাঁটার সরবরাহ বেড়েছে।

বিভিন্ন ধরনের বেগুন ৫০ থেকে ৭০, শিম ১৫০ থেকে ১৬০ ও মুলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়া আকার অনুযায়ী গত সপ্তাহের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। শসা প্রতিকেজি মানভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া আমদানি করা কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং দেশি মরিচ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কম। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে। গাজর ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা ৩০ টাকা হালি, চালকুমড়া ৪০ টাকা পিস, ফুলকপি ১৫০ টাকা, পাতাকপি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা এবং বেগুন ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা জলিল বলেন, শীতকালে সবজির দাম প্রতি বছরই কমে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। তাই এ বছর সবজি আরও সহজলভ্য হয়েছে। এখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বাজার করলেই ব্যাগ ভরে যাচ্ছে। আগে ৩০০-৪০০ টাকার বাজার করলেও এতগুলো পাওয়া যেত না। সব সবজির দাম কমতে শুরু করেছে।

বাহাদুর বাজারের সবজি বিক্রেতা হোসেন আলী বলেন, এ বছর শীতের আগাম সবজিতে বাজার সয়লাব। জেলায় সবজির ফলন ভালো হয়েছে। আমরাও কমদামে কৃষকদের কাছ থেকে নিতে পারছি। এর ফলে অল্প লাভ করেই বিক্রি করতে পারছি। সবজির দাম আরও কমে আসবে।

সবজি বিক্রেতা সাগর ও খোকন বলেন, সবজির দাম কমতে শুরু করায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে সবজি কিনছেন। আগাম সবজিতে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। তাই সবজির দাম কমেছে। শীত যত ঘনিয়ে আসবে, সবজির সরবরাহ ততই বাড়বে এবং দাম কমে আসবে। সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, এখন কোনো মৌসুম মেনে কোনো কিছুই চাষ হয় না। কৃষকরা সুযোগ পেলেই আগাম কৃষি করতে চান। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীত মৌসুমের আগেই আগাম সবজির ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। তাই বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কমে এসেছে। এভাবে দাম কমতে থাকলে মৌসুমে এসে সবজিতে কৃষককে লোকসানে পড়তে হবে। ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর গ্রামের সবজি চাষি ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তিন বিঘা জমিতে শীতকালীন ফসল বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, টমেটো, লাউ ও শাকসবজির আবাদ করেছেন। এ বছর গত বছরের তুলনায় ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৭,১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়ে থাকে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত