ঢাকা রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কুয়াকাটায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কুয়াকাটায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে 'পর্যটনে তারুণ্যের উৎসব' উদ্যোগের অংশ হিসেবে পর্যটনের গল্পে মেতেছেন ৪০ শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার বিকালে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন। সৈকতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশদূষণ রোধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ সুন্দর ও দূষণমুক্ত থাকলে পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সৈকতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ সৈকত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করবে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। পর্যটকদের কাছে সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই কুয়াকাটার প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু সৈকতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও ম্লান হয়। তাই পর্যটনশিল্পের বিকাশের স্বার্থে সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), কুয়াকাটার যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন,উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার সঙ্গে সমুদ্রসৈকতের পরিচ্ছন্নতা সরাসরি সম্পর্কিত। সৈকতে প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য ফেলা হলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব বর্জ্য সমুদ্রে মিশে সামুদ্রিক প্রাণী ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সৌন্দর্য রক্ষার বিষয় নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকূলকে নিরাপদ রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, পর্যটনশিল্পের বিকাশে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা জরুরি। এ জন্য পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। সৈকতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কুয়াকাটার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন,এ ধরনের উদ্যোগ কুয়াকাটা সৈকতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখা গেলে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও। এ জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম শাহিন, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত