
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার বীরখারুয়া গ্রামের খৈয়ারপার এলকায় কথিত পীরের বালিশ পূজা ও ওরস মাহফিলের নামে মাদক, জুয়া ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে গফরগাঁও উলামা সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- গফরগাঁও উলামা সমিতির সহসভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন আসাদি, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আনোয়ার মাহমুদ, সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ উদয়পুরি প্রমুখ। সমাবেশে বক্তার বীরুখারুয়া গ্রামের খৈয়ারপাড় এলাকায় কথিত রহিম বাবার ওরশ শরীফের নামে বালিশ পূজাসহ, মাদক, জুয়া সকল অনৈসলামিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল নাইম বলেন, ষিয়টি আমাদের নজরে আছে। ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়। আইন-শৃঙখলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে সেদিকে প্রশাসনের সার্বক্ষনিক তদারকি রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে বীর খারুয়া গ্রামের মোতালেব নামে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর মোতালেবের ছেলে মো. নাজমুল (৪৫) তার বাড়িতে একটি ঘরে খাটের ওপর বালিশ স্থাপন করে তার ওপরে লালসালু কাপড় বিছিয়ে কথিত পীর রহিম বাবার কবরের আকৃতি তৈরি করে। মৃত মোতালেব স্থানীয় চাইরবাড়িয়া বাজারের একজন দর্জি ছিলেন। বালিশ দিয়ে তৈরি কবরের পাশেই নাজমুল তার পিতা মৃত মোতালেবের কবরের ওপর ঘর নির্মাণ করে এবং লালাসালু কাপড় বিছিয়ে মাজারের আকৃতি দেয়। মৃত মোতালেবের পরিবারের লোকজন বালিশ দিয়ে তৈরি কথিত পীর রহিম বাবার কবরে নিয়মিত সিজদা দেয় ও গ্রামের লোকজনকে সিজদা করতে প্ররোচিত করে বলে অভিযোগে উঠেছে। এদিকে আগামীকাল সোমবার এই মাজারে কথিত পীর রহিম বাবার ওরশ মাহফিলের আয়োজন ঘোষনা করা হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই আয়োজন এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ওরশকে কেন্দ্র করে জুয়া ও মাদকের আসর ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা প্রকাশ করছেন। এদিকে এই ওরশ মাহফিল বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও মাজার সর্মথকরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।