
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) একাডেমিয়াুইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স হলে 'ব্রিজিং একাডেমিয়া অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি: ফস্টারিং ইনোভেশন, কোলাবোরেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল ডেভেলপমেন্ট' শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইকবাল এবং পবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্পখাতের কার্যকর সংযোগ স্থাপন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তারুণ্যের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পবিপ্রবি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর। এ কর্মসূচির আওতায় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রকৌশলী এম এ হক অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ধরনের সমঝোতা গবেষণা কার্যক্রমে যৌথ অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার ফলাফল শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তাদের উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ কর্মশালায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল বায়ার ক্রপ সায়েন্স, আজমত গ্রুপ, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা, রেনাটা পিএলসি, সেভ দ্য চিলড্রেন, জাগো নারী, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, কারিতাস বাংলাদেশ, কেমিন, রেনাটা অ্যানিমেল হেলথ, লালতীর সিড লিমিটেড, নেসলে বাংলাদেশ, অমৃত কনজিউমার ফুড প্রোডাক্টস, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এগ্রিপ্লাস এবং খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি।
বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কৃষি, খাদ্য, ওষুধ, শিল্প উৎপাদন ও উন্নয়ন খাতের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।