
রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় মো. ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর সন্তান ২১ বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। গতকাল রোববার রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তৌহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তালাকপ্রাপ্ত নারী মোছা. রেখা খাতুনকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন ফারুক। পরে বিয়ের কাগজপত্র তৈরির কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই মাস অবস্থানকালে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে রেখা গর্ভবতী হলে ফারুক বিয়ে অস্বীকার করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। পরে রেখা বাড়িতে ফিরে আদালতে নালিশি দরখাস্ত করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে রেখা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রাফিউল হোসেন।
আদালত রায়ে ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে।