ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে সুফল পাবে ৭ কোটি মানুষ

বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে সুফল পাবে ৭ কোটি মানুষ

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষ সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কারিগরি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। এর সুফল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনের আড়াই মাসের মাথায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। এসব এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষির বিকাশ এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

সভায় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনা ও রাজবাড়ীসহ দেশের ১৯টি জেলার কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে বছরে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেট খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং পানিসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার এবং সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত