প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
আমরা প্রত্যেকেই হন্য হয়ে সুখের পেছনে ছুটছি। বোধ হয় ইট পাথরের ব্যস্ত নগরীতে সুখ বিষয়টা বড্ড বিরল। একটি সুখময় জীবন লাভে কতশত সংগ্রাম ও ত্যাগের গল্প রচিত হচ্ছে নিত্য নতুন গোলকধাঁধায়।
মানুষ একা কখনও সুখী হতে পারে না। কেননা, আমরা নানা অনুসঙ্গে একে অন্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছি। প্রবাদে আছে, ‘পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না’। অন্যের জীবন ফুলে ফুলে রাঙিয়ে দেওয়ার মধ্যেই যেন ফুলের সার্থকতা। মানুষ হিসেবে আমাদের ও কোনো ধরনের প্রাপ্তির প্রত্যাশা না রেখে বৃহত্তর স্বার্থে মানব কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত। কেননা ধর্ম শুধু নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিপদে এগিয়ে আসতে বলে না বরং জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার কল্যাণে পাশে থাকার শিক্ষা দেয়। বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠনের মানবসেবামূলক কাজগুলো আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দেয়। এক টাকায় শিক্ষা কিংবা এক টাকায় আহার এমন আরও নানা উদ্যাগগুলো প্রমাণ করে এখনও সমাজে মানবতা বেঁচে আছে। উচ্চতর সাটিফিকেট ও ডিগ্রি অর্জনের বাইরে আমরা প্রত্যেককে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে এসে প্রকৃত মানুষ হওয়াটা জরুরি।
প্রকৃত শিক্ষা তো সেটাই যা আমাদের ভেতর থেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে। আমরা শুধু অন্যের দিকে ইঙ্গিত না দিয়ে নিজ জায়গা থেকে চিন্তা করা উচিত, সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে আমার ভূমিকা কী দেশের তরে? আমার একটি ইতিবাচক চিন্তাধারাও সমাজ আর দেশের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে দারুণভাবে। সমাজের একজন মানুষকেও পিছিয়ে রেখে আমরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাব না। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। ধর্মকে ভুলভাবে ব্যাখা করে নৈরাজ্য সৃষ্টি কাম্য নয়। আমাদের ধর্ম তো শান্তির বার্তা দেয় তা কলুসিত হয় মনুষ্য কর্ম দ্বারা। আমরা প্রত্যেকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে যদি নিজ সহযোগিতার হাতটি বাড়িয়ে দেয় তবে বেশি করা না গেলেও অন্তত বহু মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। এই হাসির মধ্যেই হাসবে আগামীর বাংলাদেশ। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ান হোক সেটা আপনার একটা সান্তনা বাণী দিয়ে হলেও। মানুষের সহযোগিতা ও ভালো ব্যবহারও মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকে এক জীবন বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা প্রত্যেকে দিয়াশলাইয়ের এক একটি কাঠি হয়ে দেশের জন্য সম্মিলিতভাবে আলোকবর্তিকায় রূপান্তরিত হতে পারি।
তৈয়বা খানম
শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম