ঢাকা রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সর্বত্র নিশ্চিত করা হোক বাংলা ভাষার ব্যবহার

তাহমিদুল হাসান আকন্দ, শিক্ষার্থী গণিত বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ
সর্বত্র নিশ্চিত করা হোক বাংলা ভাষার ব্যবহার

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষার মাধ্যমেই আমরা আমাদের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকি। বাংলায় কথা বলার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় যা অন্য কোনো ভাষার মধ্যে পাওয়া যায় না। বাংলা ভাষার মধ্যেই নিহিত আছে বাঙালীর আত্নপরিচয়। ভাষার মধ্যেই মিশে আছে বাঙালির সংস্কৃতি। একজন বাঙালি বাংলা ভাষা যতটা সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বলতে এবং শিখতে পারে ততটাই দুর্বোধ্য ও জটিল লাগে ভিন্ন কোনো ভাষা বলতে এবং শিখতে।

বাংলা ভাষা আমরা এমনি এমনি পায়নি। এর জন্যে করতে হয়েছে সংগ্রাম। দিতে হয়েছে তাজা প্রাণ। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে জন্ম হয় পাকিস্তান এবং ভারত নামের দুইটি রাষ্ট্র। বর্তমান বাংলাদেশ ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের অংশ যার নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। যেখানে পাকিস্তানের মোট জন সংখ্যার ৫৬% বাংলা ভাষাভাষীর জনগন বসবাস করতো। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেশটির রাষ্ট্র ভাষা কি হবে তা নিয়ে শুরু হয় তর্ক বিতর্ক। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে কার্জন হলে একটি ভাষণ দেন। তিনি এই ভাষণে ঘোষণা করেন যে, উর্দু এবং শুধু উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।

জিন্নাহর এই ঘোষণা ছাত্রজনতার মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালে যা চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছায়। সালাম, রফিক, জব্বার বরকতের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ফিরে পায় আমাদের মুখের ভাষা। ফলস্বরূপ ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই আত্মত্যাগের স্মরণে ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। যা পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো একে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

বর্তমান পৃথিবীতে বাংলাভাষী জনগণ হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি যা ৫ম বৃহত্তর ভাষা। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত এখনও সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। বাংলার মধ্যে ইংরেজি মিশ্রণকে মানুষ আধুনিকতা মনে করছে। প্রেজেন্টেশন, বিভিন্ন মৌখিক পরিক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও অফিস আদালতসহ সব দাপ্তরিক কাজে বাংলা ব্যবহার নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন আর একজনের সঙ্গে বার্তা আধান প্রদান করার ক্ষেত্রে খাটি বাংলা ভাষা ব্যবহার না করে ইংরেজি বর্ণমালায় বাংলা লিখছে। ইংরেজি বর্ণমালায় বাংলা লিখার নেতিবাচক প্রভাব পরছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এর ফলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা শুদ্ধ বাংলা বলতে ও লিখতে পাচ্ছে না। যার ফলে পরিক্ষার খাতায় নির্ভুলভাবে প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারছে না ফলস্বরূপ পরিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারছে না। যে কারণে তাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

সর্বক্ষেত্রেই শুদ্ধ বাংলার ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। আশঙ্কা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে বাংলা ভাষার ব্যবহার হয়তো বিলুপ্তি ঘটবে। এখনেই উপযূক্ত সময় সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সেজন্যে নিতে হবে কার্যকরী পদক্ষেপ। দাপ্তরিক কাজে সর্বোচ্চ বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে তরুণ সমাজকে হতে হবে সচেতন।

বেশি বেশি বাংলায় গল্প ও রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে, স্কুল কলেজে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝাতে, সেমিনার আয়োজন করতে হবে।

তবেই তরুণ সমাজ হবে সচেতন। বেঁচে থাকবে বাংলা নিশ্চিত হবে বাংলা ভাষার ব্যবহার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত