প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রমজান মাস শান্তির মাস, সংযমের মাস। এ মাসে মুসলমানরা বেশি বেশি ইবাদত করেন, সবপ্রকার অন্যায়-অপকর্ম হতে মুক্ত থাকবার চেষ্টা করেন। কেননা এ সব পাপ কাজ হতে বিরত থাকতে না পারলে রোজা পালনই নিরর্থক হয়ে উঠে।
প্রত্যেক মানুষ এ মাসে রোজা রাখে, ভালো কাজ করে, সাওয়াবের কাজ করে। এ মাসে মানুষ আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করে। রমজান মাসে মানুষ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন করে। পানাহার বর্জনের পর রোজাদারদের জন্য অত্যাবশ্যক ভেজালমুক্ত ইফতারসামগ্রী। রোজা রাখার পর সবাই পবিত্র ও ভালো কিছু খাবার দিয়ে ইফতার করতে চান। সেহরি ও ইফতারে অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল খাবার মানেই স্বাস্থ্যের ঝুঁকি। এ মাসে প্রত্যেক মানুষের কাছে সেহরির ও ইফতারের সামগ্রী অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু রমজানে যেমন একদিকে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হয়, তেমনি অন্যদিকে বাড়ে সেহরি ও ইফতারে সামগ্রীতে ভেজাল দেওয়ার প্রবণতাও। এতে মানুষ দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা অনুচিত একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পক্ষে। তাই, আমাদের ভেজালমুক্ত সেহরির ও ইফতারের সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করা উচিত। যেহেতু ভেজাল খাদ্য-পানীয় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত, তাই তা সর্বাবস্থায় পরিহার করা অপরিহার্য।
প্রতিবছর রমজানে স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর পোড়া তেল ও মবিল মিশ্রিত তেল দিয়ে মুখরোচক, লোভনীয় ইফতারসামগ্রী ভাজা হয়। যেখানে একই তেল বারবার ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠিত হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়াও শহরের রাস্তার দুপাশে ইফতারসামগ্রী বিক্রির তাৎক্ষণিক বহু দোকানপাট ফুটপাতেও বসে। খোলামেলাভাবে বসা এসব দোকানপাটের খাদ্যসামগ্রীতে মাছি ভনভন করে, খাদ্যসামগ্রীর ওপর সারাক্ষণ ধুলোবালি উড়ে এসে পড়ে। ধুলোবালুতে মাখামাখি ভেজাল খাদ্যসামগ্রী দিয়েই রোজাদারেরা দ্রুত তাদের ইফতার সেরে নেন। কারণ যিনি বিক্রি করতেছেন তিনি এবং যিনি খাচ্ছেন দুজনই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এর বিষয়ে নজর দেন না। এ ক্ষেত্রে অনেকটা উদাসীন বলা বাহুল্য। অথচ রমজান মাসে ইফতারসামগ্রীর এসব দোকানে পণ্য তৈরি বা বিক্রির ক্ষেত্রে এ বিষয়ের দিকে বিশেষ যত্নবান হওয়া দরকার সবার। খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেহরি ও ইফতারসামগ্রী সব খাদ্য ভেজালমুক্ত করা অত্যাধিক জরুরি।
উম্মে সালমা
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ