ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ব্লু-ইকোনমির নতুন দিগন্ত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন
ব্লু-ইকোনমির নতুন দিগন্ত

বঙ্গোপসাগর শুধু বিশাল জলরাশি নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক অপার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নাম। বিশাল এই সমুদ্রসীমা জয় করার পর বাংলাদেশের সামনে খুলে গেছে ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির এক নতুন দুয়ার।

সমুদ্রসীমা জয় ও ব্লু-ইকোনমির ধারণা : মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এই বিশাল এলাকা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের প্রায় সমান। ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি হলো সমুদ্রের সম্পদকে কেন্দ্র করে টেকসই উন্নয়নের ধারণা, যেখানে সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশের জন্য এটি হতে পারে আগামীর অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনা : বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এরমধ্যে ইলিশসহ বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারে। বর্তমান মৎস্য আহরণ মূলত অগভীর সমুদ্রে সীমাবদ্ধ। আধুনিক ট্রলার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে টুনা ও অন্যান্য মূল্যবান মাছ আহরণ করতে পারলে বাংলাদেশ বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এছাড়া সমুদ্রের শৈবাল বা সি-উইড চাষ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। এই শৈবাল ওষুধ, প্রসাধনী ও খাদ্য শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ : সমুদ্রের তলদেশে থাকা গ্যাস ও খনিজ সম্পদ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল মজুদ রয়েছে। বিশেষ করে অগভীর ও গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে সফল অনুসন্ধান চালানো গেলে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন

শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত