ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঈদ ও শিশুদের আনন্দের ভিন্ন জগৎ

কাকলি আক্তার
ঈদ ও শিশুদের আনন্দের ভিন্ন জগৎ

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। প্রত্যেক বছর ঈদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ঈদকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয় সবার মনে। বিশেষ করে শিশুদের মনে তৈরি হয় এক রঙ্গিন কল্পনার জগৎ- যেখানে আনন্দের রঙ, কল্পনার ডানা ও বাস্তব চিত্র মিশে থাকে।

শিশুরা যেন ঈদকে আরও প্রাণময় করে তোলে তাদের চাওয়া, পাওয়া ও নানা ধরনের আবদার করার মাধ্যমে। নতুন জামা কাপড় পড়ে ঈদের মাঠে নামাজ পড়তে যাওয়া, বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার খাওয়া, ও আত্মীয় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া যেন ঈদের আনন্দকে বহুগুন বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি উৎসাহ থাকে তাদের সালামি নিয়ে। বাবা, মা, বড় ভাই,বড় বোন সবার কাছে গিয়ে সালাম দিলেই তারা আদর করে সালামি দেয় এটা এক অন্য রকমের অনুভূতি। এই-যে ঈদ নিয়ে তাদের মধ্যে এত কল্পনা- নতুন জামা, নতুন খেলনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করা ও পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটানো ইত্যাদি। এই আনন্দ তাদের মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ উৎসব তাদের মধ্যে শুধু আনন্দই সৃষ্টি করে না এর মাধ্যমে সামাজিক ভাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্ট হয়।

গ্রাম ও শহরে ঈদের আনন্দ ভিন্ন হয়ে থাকে। গ্রামে শিশুরা ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে উপভোগ করে। তারা একসঙ্গে মাঠে যায়। গ্রামে সাধারণত কোনো উৎসব হলে মেলা বসে, তেমনিভাবে ঈদের দিন ঈদগাহ মাঠে মেলা বসে। সে মেলায় বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন জিনিস ওঠে সেগুলো দেখতে ও কিনতে যায় তারা। এছাড়াও নানা ধরনের খেলার আয়জন হয়ে থাকে গ্রামে। এসব আয়োজন শিশুদের ঈদের আনন্দ বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। গ্রামে সাধারণত ঈদ পালিত হয় সহজ সরল পন্থায় অন্যদিকে শহরে কিছুটা কৃত্রিম উপায়ে। যেমন তারা বিভিন্ন পার্ক বা রেস্টুরেন্টে যায় খাওয়া-দাওয়া করে, ঘুরে বেড়ায়।

শিশুদের খেলা করার জন্য শিশু পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক বাস্তব চিত্র যা অনেক কষ্টদায়ক ও বঞ্চনাময়। সমাজের সব শিশু সমান আনন্দ করতে পারে না। তারা দারিদ্র্যের জন্য নতুন জামা পায় না যার কারণে তাদের ঘর থেকে বেড়তে কষ্ট লাগে, যেখানে সবাই নতুন জামা পড়ে সেখানে যে তো সবারই লজ্জা লাগে আর সে তো শিশু। একদিকে কত খাবার নষ্ট হয় এই ঈদকে ঘিরে অন্যদিকে অসহায় শিশুরা খেতে পাইনা।

সত্যিই কী ঈদের আনন্দ তাদের মনে কোনো সুখ আনতে পারে? তারা বাধ্য হয় আন্যের আনন্দ দেখে নিজের মনে কষ্ট লুকিয়ে রাখে এবং সেই আনন্দে আনন্দিত হয়। আমাদের সবার উচিত ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। নিজের বাজেট থেকে কিছু বাঁচিয়ে ঐযে অসহায় শিশু আছে তাদের জন্য কিছু করা যাতে তারাও ঈদের আনন্দ পায়। তারা অল্প কিছু খাবার আর নতুন জামা পেলেই খুশি। ধনী-দরিদ্র সবার উৎসব এই ঈদ তাই দারিদ্র্যের কারণে যে ঈদ পালন করতে পাড়ছে না আমাদের সবার উচিত তাদের সাহায্য করা।

কাকলি আক্তার

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত