
গণপরিবহনে জ্বালানির কোনো সংকট নেই এবং যাত্রীদের অভিযোগের সংখ্যাও কম বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই কিন্তু নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছেন। দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে আরও ২০-৩০ টাকা কম নিচ্ছে। এখানে পুলিশ ও র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, পর্যবেক্ষক দল আছে, সব জায়গায় ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ বেশি ভাড়া চাইলে অভিযোগ পাওয়ামাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ-র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে খুব একটা অভিযোগ তারা পাননি।’ তিনি বলেন, খুব একটা ব্যত্যয় এখানে ঘটেনি, নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং বাসগুলো যথা সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে টিকিট আছে, কয়েকটি রুট আছে যেখানে এরইমধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। যারা বাসে যাচ্ছেন, তারা নির্বিঘ্নে-নিরাপদে যেতে পারছেন। কোনো হয়রানি অথবা কোনো বিড়ম্বনার শিকার তারা হচ্ছেন না। ‘অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো নিদর্শন আমি এখানে পেলাম না,’ যোগ করেন তিনি।
যারা মাগুরা যেতে চায়, তাদের খুলনার ভাড়া দিতে হচ্ছে, একইভাবে যারা বগুড়া যেতে চায় তাদের জয়পুরহাট বা রংপুর বা নওগাঁর ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে- গণমাধ্যমকর্মীরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা এখন ন্যায্য। যেহেতু গাড়িটি তো মাঝপথে যাবে না। গাড়িটির ভাড়া, জ্বালানি সবই নির্ধারণ করা হয়েছে খুলনার জন্য। তার যে ব্যয়, খুলনা যাওয়ার ব্যয় নির্ধারণ করে ভাড়াটা নির্ধারণ করেছে।’
‘যে গাড়িটি খুলনা যাবে, আপনি যদি মাঝপথে নেমে অর্ধেক ভাড়া দিতে চান...ওই অর্ধেক ভাড়া বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। যেহেতু তার রুটটা হচ্ছে গাবতলী থেকে সরাসরি খুলনা, তার ব্যয়টাও খুলনাগামী একটা গাড়ির জন্য যা থাকে। ফলে টিকিটেও তাকে সেই ভাড়াটা নিতে হচ্ছে। অনেক সময় অনেক যাত্রী তার যে গন্তব্য, সেখানে যাওয়ার পথে যে মাঝপথে গন্তব্য, সেখানে হয়তো অ্যাভেইলেবল টিকিট না থাকার ফলে অথবা অ্যাভেইলেবল বাস না থাকার ফলে তিনি হয়তো স্বেচ্ছায় ওই গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টিকিটটা কেটেছেন।’
অন্য প্রশ্নের জবাবে রবিউল জানান, ১৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যমুনা সেতুতে নিয়মিতভাবে যে সংখ্যক গাড়ি চলাচল করে, তার চেয়ে ৩২ হাজার গাড়ি গতকাল বেশি গেছে। তিনি বলেন, তারা তো সব ফুয়েল পেয়েছে! এই যে রাস্তায় দেখছেন লাখ লাখ গাড়ি চলাচল করছে, সবাই তো ফুয়েল পাচ্ছে। ফুয়েল ১৫ তারিখ রাত থেকে গণপরিবহনে অ্যাভেইলেবল আছে। আমি এখনও পর্যন্ত জ্বালানি নিয়ে কোনো অভিযোগ পাচ্ছি না। আর যদি কেউ জ্বালানি না পেয়ে থাকেন, আমি মনে করি এখন তো খুব সহজ হয়েছে- আপনি অভিযোগ করতে পারেন। ১৬০৭ আমাদের হটলাইন নম্বর আছে, পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করবেন, আমাকেও ফোন করতে পারেন, তারা ফুয়েল পেয়ে যাবেন তাৎক্ষণিকভাবে। গণপরিবহনে ফুয়েলের কোনো ঘাটতি, স্বল্পতা নেই।
যত্রতত্র বাস কাউন্টার উচ্ছেদে মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না জানতে চাইলে রবিউল বলেন, মালিকদের অনুরোধ করব যে, যত্রতত্র, অলিতে গলিতে, কোনো আবাসিক এলাকায় অথবা বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে না রেখে, তারা যেন কাউন্টারগুলো সরিয়ে নিয়ে আসে।
‘আমরা তাদের একটা সময় বেঁধে দেবো ঈদের পর এবং এটা পরবর্তীতে আমরা খুব শক্তভাবে পর্যবেক্ষণ করব। কিন্তু সরিয়ে নিয়ে আসার একটা সময় তো তাদের দিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি। লোকাল বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইতে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় এই চাপের কারণে অনেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। যেমন গতকাল নবীনগর এবং বাইপাইলে দুটি পরিবহন ১০০ টাকা বেশি নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যাত্রী অভিযোগ করেছে, সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মোবাইল টিম গিয়ে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।’
‘এটাই যথেষ্ট নয়, ঈদের পরে আমরা আরও বেশি অ্যাকশনে যাব- কেন তারা এই ব্যত্যয় ঘটাতে চাইল,’ যোগ করেন তিনি। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম রোডে নীলাচল ও ইকোনো, এই দুটি পরিবহনও বেশি ভাড়া নেওয়ার একটু চেষ্টা করেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে র্যাবের টিম এবং ওখানকার একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাদেরকে সম্ভবত আট হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করেছে। এ রকম ব্যত্যয় ঘটানোর একটা প্রবণতা যে নাই, আমি তা বলছি না। কিন্তু আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি আমি দাবি করব।’ তিনি বলেন, ‘অভিযোগ যেগুলো পেয়েছি এখন অ্যাকশন নিচ্ছি। যেগুলো এখন অ্যাকশন নিতে পারছি না, ঈদের পরে অ্যাকশন হবে।’