প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০১ মে, ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় স্থান পেল। গত সোমবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, একটি উন্নয়নকামী রাষ্ট্রের সক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ। দশকব্যাপী পরিকল্পনা ও কঠোর প্রচেষ্টার পর রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই মেগা প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ব্যবহারের অর্থ হলো, বাংলাদেশ এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘নিউক্লিয়ার ক্লাবের’ সদস্য। আমাদের মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে ‘গ্রিন এনার্জি’ বা সবুজ জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই রূপপুর প্রকল্প হবে আমাদের প্রধান হাতিয়ার। উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।
তবে এই বিশাল অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুনিবিড় ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন আশীর্বাদ, তেমনই সামান্য অবহেলায় তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এই স্পর্শকাতর জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখা অপরিহার্য। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আপৎকালীন সুরক্ষাবলয় নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় নিয়েও। কাজেই ভবিষ্যতে এ প্রকল্প যাতে জাতির জন্য গলার কাঁটা হয়ে না দাঁড়ায়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে এ প্রকল্প পরিচালনা করতে হবে।