প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২২ আগস্ট, ২০২৬
তিস্তা নামটি উত্তরবঙ্গের মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে মিশে গেছে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মানুষদের গত শতাব্দী ধরে এই নদী দুঃখ দিয়েই চলছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে চলছে যুগের পর যুগ। তবে বিএনপি সরকার যখনই এসেছে তখনই গঙ্গা ও তিস্তা নিয়ে চোখে চোখ রেখে ভারতের সঙ্গে আলাপ তুলেছে। আমরা এখন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বক্তব্যে এমনটিই দেখতে পাচ্ছি । তিস্তা নদী একটি কূটনৈতিক কার্যালয় হিসেবে কাজ করে আসছে যুগের পর যুগ। ভারতের সঙ্গে বার বার আলোচনার পরও ভারত উপেক্ষা করেছে বিষয়টিকে। তিস্তার পানিবণ্টনের সুষম নীতিতে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। যার ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষজন প্রতিবছর শীত মৌসুমে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। তিন লাখ হেক্টর জমির মধ্যে চাষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এক লাখ হেক্ট জমিতে। সেখানে জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। বর্ষায় আকস্মিক পানি এসে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। এভাবেই কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষদের জীবন। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় একমাত্র বাঁধা হলো আমাদের বন্ধু নামক প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এরই মধ্যে বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আটঘাট বেঁধে নামলেও তিস্তা নিয়ে নামতে পারেনি। তবে সরলার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে কূটনীতিক পাড়ায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চীন এরই মধ্যে বাংলাদেশকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে শতভাগ আশ্বস্ত করেছে। চীন বলছে তিস্তা পরিকল্পনা চীন বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাস্তবিক সম্পর্কের ভিত্তিতে হবে, কোনো তৃতীয় দেশকে টার্গেট করে নয়। এখানে তৃতীয় পক্ষও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এখান থেকেই বুঝায় যায় তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের কূটনীতিতে কোন পথে পা বাড়িয়েছে। আবার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীন কেন হস্তক্ষেপ করছে, এটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি। বলতে গেলে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই ভারতের সঙ্গে নদ-নদীর পানিবণ্টন নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল এবার পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে গঙ্গার পানিবণ্টনের কথা তুলে ধরবন এমনকি প্রয়োজনে আন্তজার্তিক আইনের আশ্রয় ও নিতে পারেন দেশের স্বার্থে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চললেও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় তিনি এখনই ভারত সফরে আগ্রহী নন। ঢাকা মনে করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তরের মাধ্যমেই শুধু এই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। দুই নদীর পানি বণ্টনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও শরীফ ওসমান হাদির বিষয়টি। যার ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক পাড়ায় চলছে মনকষাকষি। নদী-খাল নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার উদ্যেগ ও ছিল প্রশংসনীয়। তিনি সারাদেশ ঘুরে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করেছেন। তিস্তা ও গঙ্গা নিয়ে বিএনপি সরকার বরারবই দৃঢ়চেতা। দেশের স্বার্থে তারা দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়। বিএনপি চায় ভারত যেন বাংলাদেশের স্বার্থকে আগের মতো উপেক্ষা না করে। এজন্যই তারেক রহমানের সরকার দৃঢ়চেতা কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছেন বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া এখানে চীন আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বছরের পর বছর সহযোগিতা করে যাচ্ছে। চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হাঁটুজল নেমে পড়েছে। যেটি আমাদের শক্তিশালী কূটনীতির ফল। এ ছাড়া চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। যার ফলে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে উঠে পড়ে লেগেছে।
লেখক : শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।