ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফুটপাতের কাজ হোক দুর্ভোগ মুক্ত

কাজী ইব্রাহিম সেলিম
ফুটপাতের কাজ হোক দুর্ভোগ মুক্ত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন নগরবাসীর কল্যাণে রাস্তাঘাট, ফুটপাত, নালা-নর্দমার কাজ করছেন অনেক। এ কাজগুলো যদি পরিকল্পিতভাবে হয়ে থাকে তাহলে ভূমিকা রাখা মানুষগুলোর সুনাম বাড়বে। সেজন্য, যে যেই কাজে দাঁয়িত্বে আছেন তা তীক্ষ্ণ মেধায় সঠিক পরিমাপ মতো যথাসময়ে সম্পন্ন করলেই মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে, নগরীর সৌন্দর্যও বাড়বে। নগরবাসীর সুবিধার্তে ফুটপাত থেকে এক কদমে ব্রিজে উঠে নালা পার হয়ে মানুষের বাড়ি ঘরে, দোকানে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গন্তব্যে সুশৃঙ্খলভাবে যাওয়া আসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কিন্তু কোন কোন স্থানে দেখা যাচ্ছে ফুটপাতের উপর ইটের তিন-চারটি করে সিঁড়ি দিয়ে, এবং কোনো কোনো জায়গায় বালির বস্তার সিঁড়ি দিয়ে ব্রিজে উঠে জনসাধারণ যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। এটিতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। ফুটপাতের উপর এ সিঁডিগুলোতে হোঁচট খাওয়া পথচারীদের যাতায়াতে বিঘ্নিত ঘটছে। দাঁয়িত্বশীলদের বুঝতে হবে যে, সড়কে যানবাহনের যাতায়াত। আর ফুটপাতে অসংখ্য মানুষের পায়ে হেঁটে যাতায়াত। সেজন্য, অধিক সংখ্যক জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হলে, নালার উপর লোহার ব্রিজগুলোর গার্ডারের ১ ফুট, আর নালার দেয়ালের ৩ ইঞ্চির মাঝে ফুটপাত দেওয়া হলে, মোট ১৫ ইঞ্চি মধ্যে ফুটপাত থেকে প্রথম কদমেই ব্রিজে উঠে গন্তব্যে পৌঁছার ব্যবস্থা রাখলেই মঙ্গল। নিরাপত্তার স্বার্থে নালার দেয়ালের উপর রেলিং তো দেওয়াই আছে। বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি, লাইটের খুঁটি এবং বৃক্ষ রোপনের ব্যবস্থা সড়কের কিনারাই ফুটপাতের সঙ্গে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। যে স্থানে ফুটপাত থেকে সড়ক অধিক নিচু সে স্থানে ঢালাই দিয়ে সড়ক একটু উঁচু করে যানবাহনের যাতায়াতে সুবিধাজনক ব্যবস্থা ও নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। নালার দেয়ালগুলোতে সুতা ধরে সঠিক পরিমাপ না করার কারণে কোনো কোনো স্থানে নালার দেয়াল তিন-চার ইঞ্চি পর্যন্ত উঁচু নিচু-আঁকাবাঁকা হয়ে গেছে। সরকারি ঢালাই করা ব্রিজের নিচে নালার মাঝখানে ময়লা-আবর্জনা আটকা পড়ার মতো পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দেয়াল দেওয়া হয়েছে। অধিক অর্থ খরচ করেও কাজগুলোতে এতোই অবহেলা ও খামখেয়ালিপনা করা হচ্ছে যে, ফুটপাতগুলোর দুই-তিন ইঞ্চি যে ঢালু সড়কের দিকে দেওয়া দরকার সে ঢালু উল্টো নালার দেয়ালের দিকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফুটপাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে বিধায় যোলশহর রেলস্টেশন থেকে মুরাদপুর যাতায়াতকারী মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। সেজন্য, মুরাদপুর মোড়ের পশ্চিমের ফুটপাতের কাজ সম্পন্ন হলেও তা পরবর্তী দফায় ছোট পাথরের কুচি কংক্রিট দিয়ে সড়কের দিকে ঢালু করে দিতে হবে এবং মোড়ের পূর্বদিকের ফুটপাতের কাজগুলো এক কদমে ব্রিজে উঠে গন্তব্যে পৌঁছতে পারার মতো বুদ্ধিমান দক্ষ লোকজন দ্বারা পরিকল্পিতভাবে করানোর অনুরোধ রইল। সিটি মেয়র ও দাঁয়িত্বশীলদের কঠোর পদক্ষেপে মানুষের চলাচলের রাস্তা দখলমুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যাচ্ছে, নগরীর নাজিরপাড়া এলাকায় একটি বাড়িওয়ালা, মৌজা শিটে থাকা চলাচলের রাস্তার মুখে দেয়াল একটু দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে বিধায় যাতায়াতকারীরা মালিকানা মূল জায়গার উপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সিটি মেয়র, এসিল্যান্ড ও দায়িত্বশীলদের কঠোর পদক্ষেপে মানুষের চলাচলের পথের দেয়ালটি শিগগিরই ভেঙে দিয়ে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার অনুরোধ রইল। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে মৌজা ম্যাপ দেখে চলাচলের রাস্তাটি মেপে সরকারিভাবে খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দিতে হবে। দায়িত্বশীলরা নগরবাসীর গ্যাসের সংকট দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানুষের ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাহিদা মতো গ্যাসের ব্যবস্থা করতে হবে, গ্যাসের কর্মকর্তা কর্তৃক অন্যায়ভাবে আদায়কৃত অর্থ ফেরতে ব্যবস্থা ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যায় হস্তক্ষেপ রোধ করে দুর্বলদের রক্ষা করতে নজরদারী বাড়াতে হবে। সিটি মেয়র ও দায়িত্বশীলদের ভালো কাজের প্রশংসা ও স্বীকৃতি, নগরীর উন্নয়ন ও অপরূপ সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলার দৃশ্য সচেতন মহল দেখতে চান।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত