প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি একটি শহরের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নাগরিক সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান সূচক। একটি শহর কতটা পরিচ্ছন্ন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর। এ বাস্তবতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০টি অঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে 'ক্লিনিং ডে' কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
'নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ি'— প্রতিপাদ্যের মধ্যে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল দর্শনটিই নিহিত রয়েছে। কারণ নগর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকের নিজের বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান, দোকান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে উঠলেই একটি পরিচ্ছন্ন নগরের ভিত্তি শক্ত হবে।
প্রতি মাসের প্রথম শনিবার 'ক্লিনিং ডে' পালনের উদ্যোগকে তাই কেবল একটি দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক সচেতনতা তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, র্যালি ও লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি নাগরিকদের আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আনার উদ্যোগই হওয়া উচিত এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষ করে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা, সময়মতো ময়লা সংগ্রহ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি অপসারণের মতো বিষয়গুলো ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কর্মসূচিও।
তবে এ ধরনের উদ্যোগের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এর ধারাবাহিকতা ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর। একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে পরদিন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। কোথায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য পৌঁছাচ্ছে কি না এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না— এসব বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নাগরিকদেরও বুঝতে হবে, সিটি কর্পোরেশন একা কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে না। নিজের ঘর ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাস্তা, ফুটপাত, খাল-নালা ও জনপরিসরকেও নিজের সম্পদ মনে করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া প্রয়োজন।
ডিএসসিসির 'ক্লিনিং ডে' তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির চেয়ে বড় একটি বার্তা বহন করে—পরিচ্ছন্ন নগর প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও সম্মিলিত দায়িত্ব। কর্তৃপক্ষের নিয়মিত সেবা, কঠোর নজরদারি এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ— এ তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা।