ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আজ আন্তর্জাতিক সেপসিস দিবস : নীরব প্রাণঘাতী সেপসিস মোকাবিলায় চাই দ্রুত পদক্ষেপ

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
আজ আন্তর্জাতিক সেপসিস দিবস : নীরব প্রাণঘাতী সেপসিস মোকাবিলায় চাই দ্রুত পদক্ষেপ

প্রতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সেপসিস দিবস পালিত হয়। সেপসিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, সংক্রমণের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে জানানো এবং দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। সেপসিস এমন একটি জীবনহুমকিপূর্ণ অবস্থা, যেখানে কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার কারণে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সময়মতো চিকিৎসা না হলে সেপসিস দ্রুত গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই সংক্রমণের পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি।

সেপসিস কী : ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা অন্যান্য জীবাণুর কারণে শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে শুধু জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই নয়, শরীরের নিজের টিস্যু ও অঙ্গও ক্ষতির মুখে পড়ে। এই অবস্থাকে সেপসিস বলা হয়। অর্থাৎ, সেপসিস কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর নাম নয়; এটি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়া।

যেভাবে সেপসিসের সূত্রপাত হয় : শরীরের বিভিন্ন অংশের সংক্রমণ থেকেই সেপসিসের সূত্রপাত হতে পারে। সাধারণ উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে— ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া, মূত্রনালি ও কিডনির সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, ক্ষত বা অস্ত্রোপচারের স্থান আক্রান্ত হওয়া, রক্তপ্রবাহের সংক্রমণ এবং গুরুতর কিছু সংক্রমণ, যা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো সংক্রমণ হলেই সেপসিস হবে না। রোগীর বয়স, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, অন্যান্য অসুস্থতা এবং সংক্রমণের তীব্রতার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।

যারা বেশি ঝুঁকিতে : যে কোনো বয়সের মানুষের সেপসিস হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যেমন— নবজাতক ও ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল এমন ব্যক্তি, ডায়াবেটিস, কিডনি বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী, সম্প্রতি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন ব্যক্তি, গুরুতর আঘাত, পোড়া বা বড় ক্ষতের রোগী, যাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা-যন্ত্র বা ক্যাথেটার রয়েছে এবং গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত রোগী।

সেপসিসের সতর্কসংকেত : সেপসিসের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। সংক্রমণের সঙ্গে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে— জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া, কাঁপুনি বা প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক অবসাদ, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা সচেতনতার পরিবর্তন, ত্বক ফ্যাকাশে, ঠান্ডা বা ঘামযুক্ত হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ এবং সংক্রমণের ক্ষতস্থানে ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা বা পুঁজ। বিশেষ করে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

যখন পরিস্থিতি জরুরি : সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা যদি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত খারাপ হতে থাকে, তাহলে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি, জ্ঞান বা সচেতনতার পরিবর্তন, তীব্র দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, ঠান্ডা-ঘামযুক্ত ত্বক কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক সময় স্পষ্ট নাও হতে পারে। তাই আচরণ, খাওয়াদাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস ও প্রস্রাবের স্বাভাবিকতার পরিবর্তনও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

সেপটিক শক : সেপসিসের সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাগুলোর একটি হলো সেপটিক শক। এ অবস্থায় রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন না পাওয়ায় অঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। সেপটিক শক একটি চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা। এ ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

সেপসিসে যেসব জটিলতা হতে পারে : চিকিৎসা বিলম্বিত হলে সেপসিস শরীরের একাধিক অঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে— কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, শ্বাসতন্ত্রের গুরুতর সমস্যা, রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া, রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা, হৃদ্‌?যন্ত্রের কার্যক্রমে ব্যাঘাত, মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়া। তাই সেপসিসের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসা— দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে সেপসিস শনাক্ত করা হয় : সেপসিস নির্ণয়ের জন্য কোনো একটি পরীক্ষাই যথেষ্ট নয়। চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস, উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা ও অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। প্রয়োজনে করা হয়— রক্ত পরীক্ষা, রক্তের কালচার, প্রস্রাব পরীক্ষা, অন্যান্য নমুনার কালচার, বুকের এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য ইমেজিং, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের উৎস এবং শরীরের অঙ্গগুলো কতটা প্রভাবিত হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য : সেপসিসের চিকিৎসা হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা হয়। চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তসঞ্চালন ও অঙ্গগুলোর কার্যক্রম বজায় রাখা এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা।

রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজন হতে পারে— উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য জীবাণুনাশক চিকিৎসা, শিরায় তরল দেওয়া, অক্সিজেন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, সংক্রমণের উৎসের চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে নিবিড় পরিচর্যা। কোন ওষুধ কতটা এবং কতদিন ব্যবহার হবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা : ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা, মাঝপথে বন্ধ করা বা অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করা উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় ও ভুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সেপসিস প্রতিরোধে করণীয় : সেপসিস প্রতিরোধের বড় অংশই হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা। এজন্য নিয়মিত হাত ধোয়া জরুরি; সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে যথাযথভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে। বয়স, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নিতে হবে। কাটা-ছেঁড়া হলে ক্ষত পরিষ্কার ও সুরক্ষিত রাখতে হবে। ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ক্ষতস্থানে পুঁজ বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মানতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না।

পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা : সেপসিস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীর আচরণ বা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দ্রুত নজরে আনতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দুর্বল হয়ে পড়েন, কথা বা আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, প্রস্রাব কমে যায় অথবা সংক্রমণের সঙ্গে দ্রুত অবনতি ঘটে— তাহলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে।

সেপসিসে হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা : সেপসিস হলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট একটি গুরুতর ও জীবনহানিকর অবস্থা। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতিতে রোগকে শুধু তার নাম দিয়ে বিবেচনা না করে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য, জ্বরের ধরন, দুর্বলতা, তৃষ্ণা, ঘাম, ব্যথার প্রকৃতি, অস্থিরতা, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস এবং সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎসসহ ব্যক্তিগত উপসর্গের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করে ওষুধ নির্বাচনের কথা বলা হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সেপসিস বা গুরুতর সংক্রমণজনিত বিভিন্ন উপসর্গের ক্ষেত্রে কয়েকটি ওষুধের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে কোন রোগীর জন্য কোন ওষুধ উপযোগী হবে, তা রোগীর উপসর্গের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।

আর্সেনিকাম অ্যালবাম : তীব্র দুর্বলতা, অস্থিরতা, উদ্বেগ, ঠান্ডা অনুভূতি এবং অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করার প্রবণতার মতো উপসর্গের সঙ্গে এটি হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে বিবেচিত হয়। বেলাডোনা : হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীর গরম হয়ে যাওয়া, মুখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার মতো উপসর্গের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনায় এর উল্লেখ রয়েছে। অ্যাকোনাইটাম ন্যাপেলাস: আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া জ্বর, অস্থিরতা, ভয় ও উদ্বেগের সঙ্গে তীব্র অসুস্থতার প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে এ ওষুধের কথা বলা হয়।

ব্রায়োনিয়া অ্যালবা : শুষ্কতা, তীব্র তৃষ্ণা, নড়াচড়ায় অস্বস্তি এবং বিশ্রামে থাকতে চাওয়ার মতো উপসর্গের ক্ষেত্রে এটি বিবেচিত হয়। রাস টক্সিকোডেনড্রন : শরীরব্যাপী ব্যথা, অস্থিরতা এবং অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে উপসর্গের পরিবর্তনের মতো বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে এর ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাপিস মেলিফিকা : শরীরে ফোলা, জ্বালাপোড়া, স্পর্শে সংবেদনশীলতা এবং তৃষ্ণা কম থাকার মতো উপসর্গের সঙ্গে এটি বিবেচনা করা হতে পারে।

জেলসেমিয়াম : প্রচণ্ড দুর্বলতা, অবসন্নতা, মাথা ভার লাগা, কাঁপুনি ও ঘুমঘুম ভাবের মতো উপসর্গের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্যাপ্টিসিয়া টিনক্টোরিয়া : গুরুতর সংক্রমণজনিত অসুস্থতা, প্রচণ্ড অবসন্নতা এবং শরীর ভেঙে পড়ার অনুভূতির সঙ্গে এটি হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনায় আলোচিত একটি ওষুধ। পাইরোজেনিয়াম : হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে তীব্র সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর এবং সেপটিক অবস্থার মতো উপসর্গের ক্ষেত্রে এ ওষুধের উল্লেখ রয়েছে। ল্যাচেসিস মিউটাস: জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, অস্থিরতা এবং নির্দিষ্ট ধরনের মানসিক-শারীরিক উপসর্গের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এটি বিবেচনা করা হয়।

তবে এসব ওষুধের নির্বাচন রোগের নাম দেখে বা নির্দিষ্ট তালিকা অনুসরণ করে নিজে থেকে করা উচিত নয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতিতেও রোগীর সম্পূর্ণ উপসর্গের ভিত্তিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেপসিস দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে। তাই উচ্চ বা অস্বাভাবিক কম তাপমাত্রা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, প্রচণ্ড দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা চেতনার পরিবর্তন, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, ত্বক ফ্যাকাশে বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং সংক্রমণের সঙ্গে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতির মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিতে হবে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে চাইলে তা যেন কখনোই সেপসিসের জরুরি হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। সেপসিসে সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিৎসা, শিরায় তরল, অক্সিজেন, রক্তচাপ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণসহ চিকিৎসকের নির্দেশিত জরুরি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতাই জীবন রক্ষার প্রথম ধাপ : সেপসিসের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সংক্রমণের মতো মনে হতে পারে। এ কারণে রোগী বা স্বজনেরা চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারেন। কিন্তু সংক্রমণের সঙ্গে দ্রুত শারীরিক অবনতি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা বিপজ্জনক। আন্তর্জাতিক সেপসিস দিবসের মূল বার্তা তাই স্পষ্ট—সংক্রমণকে অবহেলা নয়, সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা।

পরিশেষে বলা যায়, সেপসিস একটি গুরুতর কিন্তু সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব এমন অবস্থা। সংক্রমণ প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা, বিপদসংকেত দ্রুত চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ— এসব পদক্ষেপ জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেপসিস সম্পর্কে জ্ঞান শুধু রোগীর নয়, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের থাকা প্রয়োজন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চিকিৎসার সফলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লেখক : কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত