প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এ রোগের প্রকোপ বাড়ে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করে। এ বাস্তবতায় সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। গত শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয় এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে।
আমরা মনে করি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এমন সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তবে শুধু তিন মাসের অভিযান দিয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সারা বছর নিয়মিত নজরদারি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিক— সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ আহ্বান বাস্তবায়নে নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনাও জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য রোগীর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতেও আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় কথা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের দায়িত্ব নয়। সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, আর নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিন মাসের এ অভিযান যেন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং এর মাধ্যমে সারা বছরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের একটি স্থায়ী সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। সরকারের উদ্যোগ, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয়েই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।