ঢাকা রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তেহরানে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত ‘২০০’

* মসজিদে আগুন, বিপ্লব পূর্ববর্তী পতাকা উড়াল বিক্ষোভকারীরা * বিক্ষোভকারীদের হামলায় বিপ্লবী গার্ডের আট সদস্য নিহত * বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে : খামেনি * ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল’ * ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাহলভি, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান
তেহরানে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত ‘২০০’

ইরানে চলমান বিক্ষোভে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন তীব্র হয়। এ সময় বিক্ষোভাকারীর সহিংস হয়ে উঠেন। এর জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গুলি ছোড়ে। টাইম ম্যাগাজিন গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরসঙ্গে একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতাকে উপেক্ষা করা হবে। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর গত শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় জড়ো হয়েছেন। ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক। তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।

তেহরানে মসজিদে আগুন, বিপ্লব পূর্ববর্তী পতাকা উড়াল বিক্ষোভকারীরা : সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় দুই রাত ধরে তীব্র আন্দোলন হয়েছে। এরমধ্যে তেহরানের একটি মসজিদে আগুন ও ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের পতাকা উড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে লাদান নামে ৬০ বছর বয়সি এক নারী জানিয়েছেন, তিনি টানা দ্বিতীয় রাত রাস্তায় নেমেছিলেন। সাদা’ত আবাত নামে এলাকার এ বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি দেখেছেন বিক্ষোভকারীরা একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের মতো গত শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভ মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ এবং ইয়জদে ছড়িয়েছিল। সংবাদমাধ্যম বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। তারা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু কামনা করে আর রাজতন্ত্রের (শাহ শাসন) পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।

অন্যদিকে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে বিক্ষোভে অংশ না নিতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়। বাবা-মায়ের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলা হয় আপনার সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে দেবেন না। সতর্কতা দিয়ে বলা হয়, যদি সেখানে গোলাগুলি হয় এবং আপনার সন্তানের কিছু হয় তাহলে অভিযোগ করবেন না। এমন সতর্কবার্তা ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে রাখলেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

আমির রেজা নামে ৪২ বছর বয়সি এক প্রকৌশলী তেহরান থেকে জানিয়েছেন তিনি গুলি ও সাউন্ড বোমার শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এক পর্যায়ে সিভিল পোশাকে মিলিশিয়া ও পুলিশ গুলি ছোড়া শুরু করলে তিনি বাড়িতে চলে যান। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন। কিন্তু এটি দ্রুতই সহিংস রূপ ধারণ করে। টানা ১৩ দিন ধরে দেশটিতে এ বিক্ষোভ চলছে। এরমধ্যে টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র তেহরানেই ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচণায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এখন সহিংস হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুমকি দিয়েছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে তারা ইরানে শক্তিশালী হামলা চালাবেন। তিনি দাবি করেন, ইরান সরকার এ মুহূর্তে বিপদে আছে।

ইরানে বিক্ষোভকারীদের হামলায় বিপ্লবী গার্ডের আট সদস্য নিহত : ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতের বিক্ষোভে তারা নিহত হন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা গত শুক্রবার ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানি রিয়ালের দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা খুব দ্রুত সময়ে দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হয়। এদিন অনেক বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এরমধ্যে জানা গেলে কেরমানশাহতে ৮ বিপ্লবী গার্ড প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সেখানে কতজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন সেটি জানা যায়নি। আলজাজিরা জানিয়েছে, ১৩ দিন চলা এ বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৬২ জনে পৌঁছেছে। তবে একটি মানবাধিকার সংস্থা ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে- খামেনি : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, তারা শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ৮৬ বছর বয়সি এই নেতা অত্যন্ত কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, কয়েক লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই দাঙ্গাবাজদের সামনে পিছু হটবে না। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইরান বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। খবর বিবিসির। এদিকে বিক্ষোভের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষগুলো বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ ও ‘শান্তি বিঘ্নকারী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দেশটির নিরাপত্তা পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র উস্কানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে। বিক্ষোভের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। কোনো কোনো সংস্থার মতে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ পর্যন্ত দুই হাজার দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান বর্তমানে বড় সংকটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় তবে ওয়াশিংটন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে তিনি সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলেও এই অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রতিবাদ করার অধিকার বিশ্বের সব মানুষেরই আছে। এরই মধ্যে ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন, যদিও ইরান সরকার একে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি হস্তক্ষেপে সহিংস হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার লেবানন সফরকালে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই দুই দেশ প্রকাশ্যে বিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের প্ররোচনাতেই আন্দোলনটি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি সত্ত্বেও আরাগচি মনে করেন, ইরানে সরাসরি বিদেশি হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কারণ হিসেবে তিনি অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপের ব্যর্থতাকে উল্লেখ করেন।

ইরানে চলমান এই সংকটের শুরু হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট শুরু করেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সেই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে তা দেশের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং রাজপথে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ দিনের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা এরইমধ্যে ২০০ ছাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালেও ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সতর্ক করেছেন যে ইরানি সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না। এ প্রসঙ্গে আরাগচি লেবাননের বৈরুত থেকে জানান, ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের মনোবল অটুট রয়েছে।

ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রেজা পাহলভি, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান : ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি গতকাল শনিবার বিক্ষোভকারীদের আরও দুই রাত রাজপথে থাকার এবং নগরকেন্দ্রগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি ও পরিবহন খাতের কর্মীদের দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরু করার ডাক দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় পাহলভি তাদের ‘সাহস ও দৃঢ়তা’র প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তার ডাকে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের হুমকির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভের ব্যাপকতা শাসকগোষ্ঠীকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা উন্মোচন করেছে। পাহলভি বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে টানা রাজপথে উপস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তার মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর্থিক জীবনরেখা কেটে দিলে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। তিনি বিশেষভাবে পরিবহন, তেল-গ্যাস এবং সামগ্রিক জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরু করার আহ্বান জানান। নির্বাসিত যুবরাজ বিক্ষোভকারীদেও গতকাল শনিবার ও আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবার রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও ছবি বহন করে জনপরিসর পুনর্দখল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য এখন শুধু প্রতীকী প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বড় শহরগুলোর কেন্দ্রীয় এলাকা দখল ও ধরে রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে পাহলভি বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দিক থেকে নগরকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার, আলাদা আলাদা মিছিলকে যুক্ত করার এবং দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকার জন্য আগেভাগে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের যেসব সদস্য বিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশে পাহলভি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ‘দমনযন্ত্র’ আরও ধীর ও ব্যাহত করতে হবে, যাতে সেটিকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, তিনি ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এটিকে তিনি ‘জাতীয় বিপ্লবের বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন, সেই সময়ে তিনি ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়াবেন। তার বিশ্বাস, সেই মুহূর্ত দ্রুত এগিয়ে আসছে।

ট্রাম্পকে মাদুরো-স্টাইলে আটকের পরামর্শ ইরানি কর্মকর্তার : ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও চিন্তাবিদ হাসান রহিমপুর আজঘাদি বলেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আটক করা উচিত, যেভাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে করা হয়েছে। গত শুক্রবার তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের অবস্থান বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের ভেতরে তার সব অঙ্গরাজ্য ও শহরে যেকোনো ধরনের অভিযান, এমনকি ধ্বংসাত্মক অভিযানও বৈধ হতে পারে, ঠিক যেভাবে তারা এখানে এসব কাজ করে থাকে মার্কিন কর্মকর্তা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

ইরানের সর্বোচ্চ সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিষদের সদস্য আজঘাদি আরও বলেন, ‘ইরানকে ট্রাম্পের সঙ্গে তাই করতে হবে, যা তারা মাদুরোর সঙ্গে করেছে। ট্রাম্পকে তার প্রেসিডেন্সির সময় কিংবা পরে হলেও মূল্য দিতে হবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি আশা করি ট্রাম্পকে আটক করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি শেষ রাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে আনে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে সেখানে তাদের বন্দি করে বিচার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত