
দাউদকান্দি-তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১ আসন ও হোমনা-পমঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন আগের সীমানায় পুনর্বহাল করতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও এক প্রার্থীর করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। ঘোষিত রায়ে দাউদকান্দি-তিতাস উপজেলার পরিবর্তে দাউদকান্দি-মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১ সংসদীয় আসন এবং হোমনা-মেঘনা উপজেলার পরিবর্তে হোমনা-তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশবিশেষ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে আগের মতো দাউদকান্দি-তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১ আসন ও হোমনা-মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসিকে গেজেট প্রকাশ করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে ইসি ও কুমিল্লা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেন। আবেদন দুটি শুনানির জন্য চেম্বার আদালতে আজকের কার্যতালিকায় ১ ও ২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী শুনানিতে ছিলেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আবদুল্লাহ আল মামুন। এর আগে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কুমিল্লা-১ আসন ছিল দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে। আর হোমনা-মেঘনা উপজেলা নিয়ে ছিল কুমিল্লা-২ আসন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তাতে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১ আসন এবং হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
গেজেটের এ-সংক্রান্ত অংশবিশেষের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহি উদ্দিনসহ ছয় ব্যক্তি গত বছর রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। এ মামলায় বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন কুমিল্লা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন ও মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এম এ মিজানুর নামের এক ব্যক্তি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৮ জানুয়ারি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন। এতে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুননির্ধারণ-সংক্রান্ত গেজেট আসন দুটির ক্ষেত্রে বহাল থাকছে। এই সীমানা অনুসারে আসন দুটিতে নির্বাচন হতে আইনি বাধা নেই।