ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সিইসির সঙ্গে বৈঠক

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে ইসিতে বিএনপি জামায়াত

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে ইসিতে বিএনপি জামায়াত

ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচন কেন্দ্র করে আচরণবিধি ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কিছু আইনি বিষয় ও নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসিকে এর ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কঠিন না করে ভোটাররা যেন সহজে ভোট দিতে পারেন- সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়া দেশে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে সব প্রতীক না রেখে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি বলেও অভিযোগ বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই নেতা। সালাহউদ্দিন বলেন, অনেক কিছু অনিয়ম হয়েছে। যে ভুল-ভ্রান্তি হচ্ছে সেখানে আমরা ভুক্তভোগী। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করা হচ্ছে, এটা প্রমাণিত। এ জন্য ইসির ব্যাখ্যা চেয়েছি।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় বিএনপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে। এ সময় সিইসি নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ দিনের আপিল শুনানি চলছিল। শুনানির বিরতির সময় দুপুর দেড়টায় বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শুরু হয়।

আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসির ভূমিকা এবং পোস্টাল ব্যালটের ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিয়ে এরইমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। এর আগে গত বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, উদ্দেশমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালট পেপারের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে। এতে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে প্রতীকটি সহজে নজরে আসে না। এ অবস্থায় এখনও পাঠানো হয়নি এমন ব্যালট পেপার সংশোধনের দাবি জানায় বিএনপি।

নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের প্রতিনিধিদল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আসেন তারা। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।

নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সুন্দর নির্বাচনে যেমন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার আপনারা (ইসি) উদ্যোগী হন, পদক্ষেপ নেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে সহযোগী শক্তি হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে আছি। যদি আইনের ব্যর্থতায় একতরফা যদি সব করতে চান, সেক্ষেত্রে কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো। আমরা একটা রাজনৈতিক শক্তি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আপনাদের ইলেকশন কমিশনকে সবচাইতে বেশি দায়ভার নিতে হবে, যেহেতু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্পূর্ণ পাওয়ার ফাংশন ইসির হাতে চলে এসেছে। একটা ভাইটাল রোল ইলেকশন-কেন্দ্রিক আছে, এই জায়গায় দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাহারাইন এমন একটা দেশ যে দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা তাদের দেশের আইনে সাপোর্ট করে না। বাংলাদেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের যে শর্তাবলী আছে- বিদেশে রাজনৈতিক দলের কোনো শাখা থাকতে পারবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে আমরা অলওয়েজ এটা মেনটেইন করেছি। যদিও মিডিয়াতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দলের শাখা আমরা দেখি। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। যেখানে আমার দলের কমিটি নেই রাজনৈতিক নেতা হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে। অথচ কিছু দল প্রচারণা শুরু করেছে। আবার আমাদের দলের প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা করছেন না। স্বপ্রণোদিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি কর্মকর্তারা আমাদের হয়রানি করছেন। এই অভিযোগটা আছে। আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। কাগজের স্তুপ পড়ে আছে। অথচ কোনো অ্যাকশন নেই। তাইলে এখানে নির্বাচনি সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে তারা, অথচ ইসির কোনো অ্যাকশন নেই। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না- হয়রানি করার জন্য আবার তাদেরকে জরিমানা, নোটিসসহ নানান কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কমিশনকে আমরা এটা বলেছি, এটা বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত