
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আমেনিকে হত্যার প্রতিবাদে গত রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। আর ওই বিক্ষোভে গুলি চালায় মার্কিন নৌবাহিনীর অভিজাত শাখা মেরিন কর্পসের সেনারা। গতকাল মঙ্গলবার এমনটিই দাবি করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বার্তা সংস্থাটি দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, গত রোববার কনস্যুলেট এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর মেরিনদের গুলি চালানোর ঘটনা এটাই প্রথম। কর্মকর্তারা বলেন, মেরিনদের ছোড়া গুলিতে কেউ নিহত বা আহত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তারা এটিও জানাতে পারেননি যে মিশন সুরক্ষায় নিয়োজিত অন্য কেউ- যেমন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী বা স্থানীয় পুলিশ গুলিবর্ষণে অংশ নিয়েছিল কি না। বিক্ষোভ চলাকালে কম্পাউন্ডের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে অন্তত ১০ জন নিহত হন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি বলেছেন, ঘটনাস্থলে ‘নিরাপত্তা’ বাহিনী গুলি চালিয়েছে, তবে তারা কোন বাহিনীর সদস্য ছিলেন, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।
পাকিস্তানের সব ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র : পাকিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে সব ভিসা সাক্ষাৎকার আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আদেশ ইসলামাবাদ দূতাবাসের পাশাপাশি লাহোর ও করাচি কনস্যুলেটেও প্রযোজ্য হবে। গত রোববার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিনই করাচি কনস্যুলেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় শত শত মানুষ।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, করাচিতে শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। করাচি পুলিশ সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১০ জন নিহত হন ও ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর আগে হাসপাতালের একটি তালিকায় ৯ জনের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যাদের সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়ায়।
রাজধানী ইসলামাবাদে কয়েক হাজার মানুষ খামেনির ছবি হাতে রাস্তায় নামেন। মার্কিন দূতাবাসের কাছে জড়ো হওয়া ভিড় সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। স্কারদু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাকিস্তানে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সরকারও সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অনেক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করা একটি দীর্ঘকালীন প্রথা। খামেনির শাহাদাতে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের শোকাতুর মানুষের পাশে আছে।