ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঢাকার

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঢাকার

নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিসিও যেহেতু বাংলাদেশের ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ রাখেনি, এর অর্থ এবারের টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। গতকাল বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন আসিফ নজরুল। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তারা সুবিচার করবে বলে আশা করছেন তিনি। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে, তা অবশ্য খুলে বলেননি তিনি।

আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়- বুলবুল : ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। সর্বশেষ আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আগের অবস্থানেই অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে ক্রিকেটারদের বৈঠকের পর বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম সেই অবস্থানের কথাই জোর গলায় বলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, কিন্তু সেটা ভারতে নয়। আর শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন তারা। গতকালের আইসিসি সভার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গণমাধ্যমকে বৃহস্পতিবার বুলবুল বলেছেন, ‘আমরা আবারও চেষ্টা করবো আজকে আরও কী কী পথ আছে, সেটা আইসিসিকে বলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব গর্ববোধ করি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব সন্দিহান। আমাদের প্রত্যেকটা লোক বিশ্বাস করতাম যে আইসিসি আমাদের আবেদন মেনে নিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে যখন আল্টিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট পাগল দেশ যদি এই বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে আইসিসি বড় একটা মিস করবে। যেখানে ভারত কমনওয়েলথ গেমসের জন্য চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো জনবহুল ক্রিকেট-পাগল দেশ না যায়, তাহলে সেটা মনে হচ্ছে আয়োজকদের বড় ব্যর্থতা।’

আইসিসি সময় বেঁধে দিলেও বুলবুল জানান, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাবো, এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো আরও কিছু বিষয় নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে।’ তার পরই ভারতে না যাওয়া নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান বুলবুল, ‘আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে ভারতে যেতে চাই না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। আমাদের দল প্রস্তুত আছে।’

তিনি আরও বলেন, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তারা। এ জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। গতকাল আইসিসির সভায় বিসিবি সভাপতিকে ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এক দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার চূড়ান্তভাবে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি।

বাংলাদেশ না খেললে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান : আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানলে আসর বয়কট করতে পারে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও। এমনটাই খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, আইসিসি যদি বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে না নেয়, সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাববে পাকিস্তান।

গত বুধবার ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটিতে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে পাশে ছিল একমাত্র পাকিস্তান। এবার আরও কঠোর হওয়ার কথা ভাবছে দেশটির বোর্ড। যদিও এর আগেও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিত করার খবর দিয়েছিল জিও সুপার। তবে সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিল দেশটিরই অন্যান্য গণমাধ্যম। এবার দেখার অপেক্ষা, গুঞ্জন নাকি সত্যিই বিশ্বকাপ বর্জন করে পাকিস্তান। পিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিলে নাটকীয় মোড় নেবে চলমান ইস্যুটি।

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ বয়কট করতে বললেন রশিদ লতিফ : নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি তুলেছিল বাংলাদেশ, আইসিসি সেটা নাকচ করে দেওয়ায় খুবই বিরক্ত রশিদ লতিফ। কঠিন এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বলেছেন তিনি। পাকিস্তানের প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়াও উচিত বলে মনে করছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর বুধবারের খবর অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে কি-না বাংলাদেশ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় দেওয়া হয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড বিসিবিকে। ভারতে না গেলে, তাদের বদলি হিসেবে অন্য কোনো দেশকে সুযোগ দেওয়া হবে বলে আইসিসির সভায় ভোটাভুটিতে এই রায় এসেছে। বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনেকবারই বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কোনোভাবেই ভারতে যাবে না বাংলাদেশ দল। সমস্যা সমাধানে আইসিসির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিসিবির অনুরোধ বুধবার খারিজ হয়ে যায় আইসিসি বোর্ড সদস্যদের ভোটে। নিজেদের বাইরে স্রেফ আর একটি ভোট বাংলাদেশের পক্ষে গেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় ও একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। আইসিসি বুধবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সূচি অনুযায়ী ভারতেই হবে। বাংলাদেশ না গেলে র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে পারে স্কটল্যান্ড। ভারতের না যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানে শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে পাকিস্তান। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিজেদের মাটিতে আয়োজন করতেও আগ্রহী তারা। এমনকি বুধবার ক্রিকইনফোর খবরে এসেছে, বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চিঠি পাঠানোর বিষয়টি।

বাংলাদেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে আসছে বিশ্বকাপ তাদের ছাড়াই হতে যাচ্ছে, এটা একরকম নিশ্চিত। এই সময়ে পিসিবিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বললেন দেশের সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান রাশিদ লাতিফ।

পাকিস্তান ও ভারতের ম্যাচ যদি না নয়, অর্ধেক বিশ্বকাপই শেষ। এখনকার ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটা দারুণ একটি সুযোগ। পাকিস্তানের বলা উচিত যে, তারা বাংলাদেশের পাশে আছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এখনই উপযুক্ত সময় অবস্থান নেওয়ার। এটা করতে হলে শক্ত মনোবল প্রয়োজন।

আইসিসি বুধবারের বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বিবেচনা করে ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের কোনো ঝুঁকি বা হুমকি দেখছে না তারা। ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার এমন কথা একদমই ভালো লাগেনি রশিদ লতিফের।

আইসিসি যেভাবে পুরো বিষয়টি সামলেছে, তার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশকে যে আশ্বাস দিচ্ছে আইসিসি, তা মোটেও ঠিক নয়। এটা ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে না। আইসিসি বলছে, ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। বিশ্বের কোনো সংস্থাই বলতে পারে না যে, কোনো বিপদ হবে না- আইসিসি কীভাবে তা বলতে পারে? সবচেয়ে নিরাপদ স্থানেও কেউ এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না। আশা করি, কোন দলেরই কিছু হবে না। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত