ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার

রাজপথ থেকে গ্রামগঞ্জ- সবখানেই এখন নির্বাচনি উৎসবের আমেজ। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। একদিকে সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন, অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদ’ বা সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া। এই দ্বিমুখী লক্ষ্যে সারা দেশে এখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও দিনরাত প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি রাজপথের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনি সভার বড় অংশ বরাদ্দ রাখছে সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠনে। সাধারণ মানুষের মাঝেও এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সারাদেশে হ্যাঁ ভোটের জন্য জোয়ার দেখছি- প্রেস সচিব : সারাদেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ জানে-হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশে আর স্বৈরাচার, অনাচার ও অত্যাচার ফিরে আসবে না। নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি মাজারে দোয়ায় অংশ নেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা মনে করি, সারা বাংলাদেশেই হ্যাঁ ভোটের জন্য একটা জোয়ার তৈরি হয়েছে। মানুষ বুঝে গেছে, হ্যাঁ ভোট দিলে ব্যাংকে রাখা টাকা নিরাপদ থাকবে, পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আর রাষ্ট্র এমন একটি পথে চলবে যেখানে মানুষের অধিকার অক্ষুণ্ণ ও সমুন্নত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বারবার জানিয়েছে, ভোট গ্রহণ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।’ জনগণকে শান্ত ও ধৈর্য ধরে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বুচাই পাগলার মাজার প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে জনপ্রিয় বাউল গানের মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের নামকরা বাউল শিল্পীরা অংশ নেন। এই মাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এই মেলা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অলি-আউলিয়াদের দেশ, পীর-আউলিয়াদের দেশ। ইসলাম এই ভূখণ্ডে এসেছে তাদের হাত ধরেই। মাজারে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কারও পছন্দ না হলে তিনি সেখানে না আসতে পারেন, কিন্তু আঘাত বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বুচাই পাগলার মাজারে কিছু লোক ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় ঢাকা জেলা সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ জুনায়েদ ধামরাই থানা পুলিশকে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মাজারটি সংস্কার করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার নিন্দা জানানো উচিত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সব নাগরিকের দায়িত্ব।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সাংবাদিকরা এবারের নির্বাচন সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে কাভার করতে পারবেন।’ মাজার পরিদর্শনের সময় প্রেস সচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি এবং ধামরাই থানা পুলিশের সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাসিস্ট হওয়া রুখে দিতে গণভোটের বিকল্প নেই- ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব বলেছেন- কোনো প্রধানমন্ত্রী যাতে ফ্যাসিস্ট না হতে পারে, সেজন্য গণভোটের বিকল্প নেয়। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ?‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব আরও বলেন, ‘বিগত দিনে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তার হাতেই ক্ষমতা ছিল। তিনিই সংসদীয় নেতা, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ নেতা, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন।

বিচার বিভাগের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তার হাত ধরেই নিয়াগ হন প্রধান বিচারপতি। সংসদে আইনও পাস করা হয়। তার ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুদক কেউই কাজ করতে পারে না। ফলে বারবার ফ্যাসিস্ট ফিরে আসে। এজন্য এই দেশে ক্ষমতার ভারসম্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বক্ষমতা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ দেওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী যাতে আবারও স্বৈরাচারী না হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ ভোটের কোনো বিকল্প নেয়।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর বিশ্বদ্যালয়ের উপাচার্য শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনমুল কবির, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় প্রমুখ।

যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে- উপদেষ্টা আদিলুর : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাচ্ছে। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহিদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে। এদেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, যারা গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।

স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরের আরডিএ ও তাজহাট জমিদারবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। এছাড়াও তিনি মিঠাপুকুরে এলজিইডির সড়ক পরিদর্শন ও শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শানেরহাটে নির্মিত রাস্তা পরিদর্শন করবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত