
প্রথমবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দ্বাদশ আসরের ফাইনালে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বন্দরনগরীর দলটি। কিন্তু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে বড় পুুঁজি গড়া থেকে আটকাতে পারেনি। তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ড সেঞ্চুরির সুবাদে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিয়েছিল পদ্মা পাড়ের দল। সেই লক্ষ্য পুরণ করতে ব্যর্থ হন চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। ১৭৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলটি অলআউট হয় ১১১ রানে। ফলে চট্টগ্রামের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা জিতেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি চট্টগ্রামের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শুরু থেকেই ধুকতে থাকে দলটি। এক পর্যায়ে ৭২ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বন্দর নগরীর দলটি। ১১১ রানে গুটিয়ে ৬৩ রানে হেরে যায় তারা। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেন আসিফ আলী। রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো।
গতকাল শুক্রবার প্রতিযোগিতার দ্বাদশ আসরের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করেছে রাজশাহী। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে পুরো ২০ ওভার খেলে তারা তুলেছে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান। তানজিদ খেলেন ঠিক ১০০ রানের আগ্রাসী ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কা। ৬১ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শের পরের বলেই অবশ্য সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
তানজিদ অবশ্য দুবার বেঁচে যান ক্যাচ তুলে, ব্যক্তিগত ৫৪ ও ৮৮ রানে। প্রথমবার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও পরেরবার আসিফ আলী বল মুঠোয় জমাতে পারেননি। দুবারই দুর্ভাগা বোলার ছিলেন আমির জামাল। শেষমেশ মুকিদুলের বলে জামালের ক্যাচে পরিণত হয়ে থামেন তানজিদ।
তানজিদের আগে ২০১৭ সালের বিপিএলের ফাইনালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে গেইল ও ২০১৯ সালের আসরের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে তামিম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। এই নিয়ে টানা তিন আসরে সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেন ২৫ বছর বয়সী তারকা। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ও গত বছর ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে শতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। রাজশাহীর উদ্বোধনী জুটির শুরুটা হয় দেখেশুনে। তবে সুযোগ পেলে বাউন্ডারি মারতে পিছপা হননি তানজিদ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আসে বিনা উইকেটে ৪০ রান।
শরিফুল ইসলামের করা তৃতীয় ওভারে টানা ছক্কা ও চার মারেন তানজিদ। পঞ্চম ওভারে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান আক্রমণে এলে তাকে চার মেরে অভ্যর্থনা জানান আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ওই ওভারের সমাপ্তি ঘটে তানজিদের ছক্কায়। সব উইকেট হাতে থাকার পুরো ফায়দা নিয়ে পাওয়ার প্লের পর আরও উত্তাল হয়ে তানজিদের ব্যাট। সঙ্গী ফারহানের ভূমিকা ছিল মূলত দর্শকের। সপ্তম ওভারে শেখ মেহেদী বোলিংয়ে ফিরলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান তানজিদ। পরের ওভারে তানভীর ইসলামকে ছক্কায় ওড়ান ফারহান। নবম ওভারে চার বলের মধ্যে ফের জোড়া ছক্কা আসে তানজিদের কাছ থেকে।
ছক্কার ভেলায় চড়ে ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ। ততক্ষণে তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ছয়টি ছক্কা। ইনিংসের মাঝপথে রাজশাহীর পুঁজি দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৮২ রান। আর ১ রান যোগ হওয়ার পরই বিচ্ছিন্ন হয় উড়তে থাকা উদ্বোধনী জুটি। ছক্কা মারার চেষ্টায় মুকিদুলের বলে জামালের তালুবন্দি হন ফারহান। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ৩০ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় তার সংগ্রহ ৩০ রান। তিনে নামা কেইন উইলিয়ামসনের সঙ্গেও জমে যায় তানজিদের জুটি। দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন উইলিয়ামসন। তিনি শরিফুলের বলে ধরা পড়েন নাঈম শেখের হাতে। ভাঙে ৩২ বলে ৪৭ রানের জুটি।
ফিফটির পর কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়া তানজিদ শেষদিকে আবার চড়াও হন। ১৭তম ওভারে জামালকে তিনটি চার মারার পরের ওভারে শেখ মেহেদীকে ছক্কায় উড়িয়ে পৌঁছে যান ৯৭ রানে। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি পূরণ করেন রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি। উদযাপন করেন দারুণ ঢঙে। ইনিংসের শেষ বলে রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে (৭ বলে ১১ রান) বিদায় করেন শরিফুল। ফলে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি পেসার। এবার তার উইকেট ২৬টি। গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর পক্ষে তাসকিন আহমেদ নিয়েছিলেন ২৫টি উইকেট। জেমস নিশাম অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ৭ রানে। কৃপণতা দেখানো মুকিদুল ৪ ওভারে ২০ রানে ও শরিফুল ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন। উইকেটশূন্য থাকা তানভীর ইসলামও আঁটসাঁট থেকে ৩ ওভারে ১৭ রান দেন। তবে ভীষণ খরুচে ছিলেন ওভারের কোটা পূর্ণ করা শেখ মেহেদী ও জামাল। শেখ মেহেদী ৪৮ ও জামাল ৪৩ রান দেন।