
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ পড়ানো হবে আগামী সোমবার। একই দিনে মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শনিবার রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব আক্তার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ানো হবে। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট জারি করেন। গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম, পিতা/ স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের আয়োজন করা হবে।
গত শুক্রবার রাতে গণভোটের ফলাফলেরও গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬? জন। গণভোটে বাতিল করা ব্যালট পেপারের সংখ্যাও বিপুল- ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তার মনোনীত ব্যক্তি। তিন দিনের মধ্যে এটি না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সেই অনুযায়ী আগামী সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পড়াবেন।
নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন- এটি অনেকটাই নিশ্চিত। নির্বাচনে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে, এটাও অনেকটা নিশ্চিত।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। গত শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম- ২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১- দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
নতুন মন্ত্রিসভা : সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন, সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংখ্যার কমপক্ষে দশভাগের নয় ভাগ সংসদণ্ডসদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ পাবেন। সর্বোচ্চ দশভাগের এক ভাগ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত (টেকনোক্র্যাট) হতে পারবেন বলে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে তারাই হবে দেশের নতুন সরকার। শপথ নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে আগের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বঙ্গভবন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ এবং মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শপথ অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে সেটা নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় সেদিন। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। আর ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন। ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দু’টি আসন। এছাড়া একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফতে মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপির বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ধর্ম, লিঙ্গ, নবীন-প্রবীণের বৈচিত্র্য রয়েছে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবাই জয়ী হয়েছেন। এবার নির্বাচিতদের মধ্যে ছয়জন নারী সদস্য রয়েছেন; যা অন্য দলে নেই।