
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মাইকে অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ বাজতে থাকে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব নাজির মাহমুদ এই দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রাখা হয়। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সেখানে কাজ করছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিং করা হয়।