ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৩ কোটি টাকা ব্যয়েও ঝুঁকিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা

৩ কোটি টাকা ব্যয়েও ঝুঁকিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা

পরিবহন খাতে বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ বাসে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় চালিত একটি বাসের ব্রেক ফেল করায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। এ ঘটনার পর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিতের দাবিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিজস্ব ৯টি ও ভাড়ায় পরিচালিত ৮টিসহ মোট ২৫টি যানবাহন রয়েছে।

পরিবহন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। প্রতি মাসে এ খাতে ব্যয় হয় ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা এবং প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। বিপুল এ ব্যয়ের পরও বাসগুলোর ফিটনেস, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় চালিত দুপুর আড়াইটার একটি বাস ময়মনসিংহ শহর-এর টাউন হল মোড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ব্রেক ফেল করে। চালক দ্রুত বাসটির গতি নিয়ন্ত্রণে আনলে হেলপার নেমে চাকার নিচে ইট দিয়ে সেটি থামান। এতে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা আনজুম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আজই প্রথম নয়। প্রতিনিয়তই এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাসের ব্রেকিং সিস্টেমে ত্রুটি থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রায়ই বাস বিকল হয়ে যাওয়ায় সময়মতো ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও সম্ভব হয় না।”

শুধু যান্ত্রিক ত্রুটিই নয়, বাসগুলোর ভেতরের পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, নিয়মিত চলাচলকারী বাসগুলোর সিট জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন। সিটের ফাঁকফোকর থেকে শুরু করে পুরো বাসজুড়েই ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে।

শিক্ষার্থী গালিব হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস হলেও এগুলোকে লোকাল বাস মনে হয়। জানালার কার্নিশসহ বিভিন্ন জায়গায় ছারপোকার আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। জানালার কাচ ভাঙা, একটু বৃষ্টি হলেই ভিজে ভিজে ক্লাসে আসতে হয়। প্রতিদিন এসব বাসে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়মিত বাসের ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা, ভাড়ায় চালিত বাসগুলোর মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন বাস সংযোজন করে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।

এ বিষয়ে পরিবহন পুলের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) মো. আল-আমিন বলেন, “ভাড়ায় চালিত বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু এসব বাস ভাড়া নেয়। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা পরিবহন প্রশাসকের কাছে জানাতে পারেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, “বাসের সমস্যা সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইঞ্জিনের সমস্যা আগে থেকে বলা যায় না। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের নতুন বাস কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় টেন্ডারের মাধ্যমে ভালো মানের ভাড়ায় চালিত বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খোঁজা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের নির্ধারিত শর্ত ও রেটে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে বিআরটিসি-র সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তাদের কাছ থেকে আরও ৯টি বাস ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

পরিবহন ব্যবস্থা,নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,৩ কোটি টাকা ব্যয়
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত