
হবিগঞ্জে ১৮ মাস পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বানিয়াচং উপজেলার আমীরখানি গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ বিচারক আব্দুল মন্নান মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৯ মার্চ আদেশের দিন ধার্য করেন। মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নিজেকে ছাত্রদল কর্মী বলে দাবি করেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. আঙ্গুর আলী মামলার বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আবু জাহির, হবিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মাহবুব আলী, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, বানিয়াচং উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আতাউর রহমান সেলিমসহ মোট ৫৬ জন। বাদী তার মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই শহরের আশরাফ জাহান কমপ্লেক্সের কাছে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে তিনি (মাহমুদুল হাসান) সহ আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
হাসিনা-কাদের-কামালসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় চার্জশিট : চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর গুলশানের আবুজর শেখকে (২৪) গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট। এতে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগজশে একই উদ্দেশ্য সাধনকল্পে বেআইনি জনতার দলবদ্ধ হয়ে সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বল ও উগ্রতা প্রয়োগ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্ররোচনা প্রদানপূর্বক হত্যাকান্ড সংঘটিত করায় তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৬/৩০২/১১৪/১০/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের এসআই ইসরাইল হোসেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার এ চার্জশিট দাখিল করেন। তবে চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার বিষয় এখনও শুনানি হয়নি। গতকাল শুক্রবার গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক এমপি মির্জা আজম ও হাইকোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের প্রগতি সরণির বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল। তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা মিছিলে গুলি করেন। এসময় আবুজর শেখ গুলিবিদ্ধ হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছর ২৭ জুলাই আবুজর শেখ মারা যান।
ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর আবুজরের মা ছবি খাতুন বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট। মামলায় বিচারপতি মানিকসহ তিন আসামি কারাগারে আটক রয়েছে।