ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র হারাল যুক্তরাষ্ট্র

* গোলাবারুদ তৈরির জন্য হোয়াইট হাউজে জরুরি বৈঠক * যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক
৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র হারাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম চার দিনেই বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেখানে থাকা মার্কিন রাডার সিস্টেম এএন/এফপিএস-১৩২ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প এলাকায় স্থাপিত অত্যাধুনিক থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের এএন-টিপিওয়াই-২ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণেও সেখানে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাডারটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত রোববার কুয়েতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুলবশত এগুলো ভূপাতিত করে। এতে ৬ জন ক্রু সদস্য প্রাণে বাঁচলেও প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তিনটি বিমানই বিধ্বস্ত হয়েছে। বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল (এএন-জিএসসি-৫২বি) ধ্বংস হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের এসব হামলা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, এরবিল বিমানবন্দর, জেবেল আলি বন্দর এবং রিয়াদ ও দুবাইয়ের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের আরিফজান ক্যাম্পে হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গোলাবারুদ তৈরির জন্য হোয়াইট হাউজে জরুরি বৈঠক : হোয়াইট হাউজের পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা আগামী শুক্রবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা শুরুর পর আরো অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।

রয়টার্স এর বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, মার্কিন অস্ত্র নির্মাণবিষয়ক ঠিকাদার কোম্পানিগুলোর পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে অস্ত্রের রিজার্ভ কমে আসায় ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগে বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। রয়টার্স লিখেছে, হোয়াইট হাউজ মার্কিন অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের অস্ত্র নির্মাণের গতি অবশ্যই বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সরকার ঘোষণা করেছে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত মঙ্গলবারও ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময় এখন পার হয়ে গেছে, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। চার দিনের এই সংঘাতের ফলে এরইমধ্যে কয়েকশ’ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৫ জন শিশু ও স্কুলকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা এবং মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এদিকে তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েল লেবাননের আরও ভেতরে সেনা পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মার্কিন নাগরিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে ড্রোন হামলার খবরও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ড্রোনটি কনস্যুলেট ভবনের পাশে একটি পার্কিং লটে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদ আছেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা কংগ্রেস সদস্যদের সামনে ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। রুবিও ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রথমে ১০০ সদস্যের সিনেট এবং পরে ৪৩২ সদস্যের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন। সিনেট এবং হাউস উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের নীতিগুলোর প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরুর পর রিপাবলিকানদের কেউ কেউ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিদেশে সেনা পাঠানো উচিত নয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত