ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জ্বালানি সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে সরকার

জ্বালানি সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় সারা পৃথিবীতে জ্বালানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছে। যেগুলো কমিটমেন্ট ছিল, সেগুলো আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এইসব তথ্য জানিয়ে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে ঢাকা সফরে আসা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে পল কাপুর বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী জানান, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুত দিয়েই পরিস্থিতি সামলানোর পক্ষে হাঁটছে সরকার। তার কথায়, ‘আমার হাতে যা আছে সেটাকে সাশ্রয়ভাবে ব্যবহার করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত আমার সাপ্লাই লাইন ঠিক না হয়।’ তিনি বলেন, ‘যা আছে সেটাকে সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে। দেশের মানুষ সহযোগিতা করলে এই ক্রাইসিস পার হয়ে যাওয়া সম্ভব।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এটাই বিকল্প -জ্বালানি মন্ত্রী : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হাতে থাকা জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এটাই বাংলাদেশের বিকল্প বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। কম ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পরিস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের যেটুকু আছে, সেটা দিয়ে আমরা কীভাবে সাশ্রয়ীভাবে চালাতে পারি, সেটা আলোচনা করলাম। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে এই ব্যাপার একটা প্রেস রিলিজ দেবো। তিনি বলেন, আমার হাতে যে জ্বালানি আছে সেটাকে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এটাই হচ্ছে- আমাদের বিকল্প। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক না হবে, যেটা আছে সেটাকে আমরা সাশ্রয়ীভাবে চালানোর চেষ্টা করছি। যুদ্ধ যতদিন থাকবে, ততদিন তো এই সংকটটা থাকবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একটা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানির একটা ক্রাইসিস সৃষ্টি হয়েছে। আমাদেরও শর্টেজ দেখা দিয়েছে। যেসব কমিটমেন্ট ছিল, সেগুলোর কিছু আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, এই মুহূর্তে তারা আমাদের কী ধরনের কো-অপারেশন করতে পারে। আমরা তাদের জানিয়েছি, আমরা দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আর এই ক্রাইসিস পিরিয়ডে সাপোর্টের জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। তারা বলেছে, আলোচনা করে আমাদের জানাবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পট পারচেসে গেছি; কিন্তু প্রত্যাশিত রেসপন্স পাচ্ছি না। এখন আমরা মূলত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি। আমরা আলোতে থাকব নাকি অন্ধকারে থাকব- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন এটি শুধু আমাদের একার সমস্যা থাকে না। ভারত ও পাকিস্তানেও একই অবস্থা। আমরা অন্ধকারে থাকব না আলোতে থাকব, এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে চেষ্টা করছি যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়। হাতে থাকা সম্পদ সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করে মানুষের স্বস্তি বজায় রাখতে চাই। এমন সংকটে লোডশেডিংসহ অন্যান্য বিষয় একটির সঙ্গে আরেকটি ইন্টারকানেক্টেড থাকে। তিনি বলেন, আমরা যদি সাশ্রয়ীভাবে চলি, তাহলে মার্চ মাস মোটামুটি সামাল দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত