ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কোথাও পাম্প বন্ধ কোথাও লম্বা লাইন

কোথাও পাম্প বন্ধ কোথাও লম্বা লাইন

দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় বিভিন্ন পাম্পে বন্ধ রয়েছে যানবাহনে তেল দেওয়ার কার্যক্রম। তবে সীমিত পরিসরে খোলা পাম্পগুলোতে বিভিন্ন সময় তেল দেওয়া কার্যক্রম চললেও সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। খোলা পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল মিলছে না।

রাজধানীর অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় খোলা পাম্পগুলোর সামনেই দীর্ঘ লাইনে তেলের অপেক্ষায় কাটছে যানবাহন চালকদের সময়। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পটি তেল না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। তবে গ্যাস দেওয়ায় কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পের কর্মী সুজন বলেন, মালিক ভোর ৬টায় ডিপোতে গিয়ে সিরিয়াল দিয়েছেন। এখনও তেল পাননি। যদি তেল পেয়ে যান, তাহলে ৩টার দিকে আবার তেল দেওয়া শুরু করব। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকে। কিন্তু ডিপো থেকে মাত্র ৯ হাজার লিটার তেল দেওয়া হয়। তাও আবার একদিন পর একদিন। মানে ৯ হাজার লিটার তেল দিয়ে আমাকে দুদিন চালাতে হয়, যেখানে দুদিনে আমার প্রয়োজন ৬০-৭০ হাজার লিটার। একই স্থানে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার নামের তেল পাম্পে যানবাহনে তেল দেওয়ার কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। তবে এই পাম্পটির সামনে শাহবাগমুখী তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার নামের তেল পাম্পের কর্মী মো. শাহ আলম বলেন, আমাদের পাম্পে তেল আছে। আমরা সব মোটরসাইকেলে ৫ লিটার করে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল দিচ্ছি। আর প্রাইভেট বা মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে গাড়ি বুঝে তেল দিচ্ছি। অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দুই ঘণ্টার ওপর লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও তেল নিতে পারিনি। তেল না নিয়ে ফেরার উপায় নেই। বাইকে তেল নেই। আজও যদি ভিড়ের কারণে তেল না নেই, তাহলে বাইক ঠেলে বাসায় নিয়ে যেতে হবে।

বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে তেল না থাকায় তেল দেওয়া কার্যক্রম বন্ধ। তবে ডিপো থেকে তেল নিয়ে আসা গাড়ি থেকে তেল নামানো হচ্ছে। পাম্পের সামনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে তেল আনলোড হলেই তেল দেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। পাম্পে কর্মরত এক কর্মী বলেন, তেল ছিল না, তাই বন্ধ রাখা হয়েছিল। ডিপো থেকে তেলের গাড়ি এসেছে। আনলোড হলেই তেল দেওয়া শুরু হবে।

অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক আমজেদ হোসেন বলেন, গাড়িতে তেল নেওয়া এখন মানুষের জীবনযুদ্ধের একটা অংশ হয়ে গেছে। মানুষের এখন গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্যও হাতে তিন-চার ঘণ্টার একটা সময় নির্ধারণ করে রাখতে হয়। এখন আমরা সবাই তো বুঝি যুদ্ধের কারণে তেল সংকট হচ্ছে, এখানে সরকারেরও কিছু করার নেই। সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার দরকার কী? সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু আমরা তেল পাচ্ছি না। সরকারের যদি সত্যি তেলের সংকট থাকে, জনগণকে বলুক। জনগণ তাহলে সেভাবেই গাড়ি চালাবে।

তেলের অপেক্ষায় কাটছে সময় : কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লম্বা লাইন : আসাদগেটে অবস্থিত তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, তালুকদার পাম্পটিতে তেল না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বিপরীত পাশে অবস্থিত সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া হলেও আসাদগেট থেকে মোহাম্মদপুরমুখী তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক সাজ্জাদ বলেন, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শেষ পর্যন্ত তেল নিতে পারব কি না সন্দেহ। পাঁচণ্ডছয়দিন আগেও সারাদিন তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে পাম্পের কাছাকাছি গিয়েছি, আর পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে আমরা যে এত ভোগান্তি নিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছি, আমাদের তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা কি?

তেল সংকটে থমকে ওয়াটার ট্যাক্সি, যাত্রীশূন্য টার্মিনাল এখন সেলফি স্পট : ঈদের ছুটি শেষেও রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের সেই ভিড় নেই। উল্টো যাত্রী সংকট আর জ্বালানি তেলের ঘাটতিতে অনেকটাই থমকে গেছে ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল। যাত্রীশূন্য টার্মিনালগুলো এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে সেলফি তোলার স্পটে। বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাতিরঝিলের বাড্ডা গুদারাঘাট (গুলশান) টার্মিনালে ওয়াটার ট্যাক্সির অপেক্ষায় মাত্র সাত-আটজন যাত্রী। টিকিট কাউন্টার ফাঁকা। কাচে লাগানো নোটিশে লেখা- ‘এফডিসি-কারওয়ান বাজার: নির্দিষ্ট সময় নেই। ১০ জন যাত্রী হলে বা বোট/ট্যাক্সি এলে ছাড়া হবে, না হলে রামপুরা থেকে যেতে হবে।’ নোটিশটি পড়েই অপেক্ষমাণ কয়েকজন তরুণ-তরুণী টার্মিনালের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে সেলফি তুলতে শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও যোগ দেন। আশপাশের এলাকা- গুদারাঘাট থেকে পুলিশ প্লাজা ওভারব্রিজ পর্যন্ত- প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পর টিকিট বিক্রেতা ফিরে এলে আরও দু-একজন যাত্রী টিকিট কাটেন। তবে ট্যাক্সি না থাকায় কখন ট্যাক্সি আসবে জানতে চাইলে টার্মিনালের এক কর্মী বলেন, ‘রামপুরায় একটি ট্যাক্সি আছে, আসতে আরও ১০ মিনিট লাগবে।’ এদিন সরেজমিনে গুলশান ছাড়াও রামপুরা, পুলিশ প্লাজা ও এফডিসি- কারওয়ান বাজার টার্মিনাল ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়।

গুলশান টার্মিনালের কর্মচারী ইলিয়াস আলী বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি বোট চলাচল করে। এখন যাত্রী ও তেল সংকটের কারণে মাত্র চারটি ট্যাক্সি চালাতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, ১৫টি ট্যাক্সি চালাতে দৈনিক প্রায় ৪৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সময় ২০০ লিটার তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। আগে একটি পাম্প থেকেই প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া গেলেও এখন একাধিক পাম্প ঘুরেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইলিয়াস আলী জানান, যাত্রী কমে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে- প্রথমত, যাত্রীরা এসে অনেক সময় ট্যাক্সি পান না; দ্বিতীয়ত, ১০ জনের কম যাত্রী হলে ট্যাক্সি ছাড়া হয় না। এফডিসি-কারওয়ান বাজার টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ৮-১০টি ট্যাক্সি ঘাটে বেঁধে রাখা। টিকিট কাউন্টারও বন্ধ। সেখানে ঘুরতে আসা কয়েকজন তরুণকে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে দেখা যায়। ইস্কাটনের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও ছয় বছরের শিশুকে নিয়ে ট্যাক্সি চড়ে গুলশান যাওয়ার উদ্দেশে এসেছিলেন। কিন্তু ১০ জন যাত্রী না হওয়ায় ট্যাক্সি ছাড়েনি। তিনি বলেন, ‘প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ছয়জনের বেশি যাত্রী হলো না। বাচ্চাও বিরক্ত হয়ে গেছে, তাই চলে যাচ্ছি।’ ঈদের ছুটির পর সাধারণত হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু এবার জ্বালানি সংকট ও ট্যাক্সির অনিয়মিত চলাচলের কারণে সেই চিত্র উল্টো। যাত্রী কমে যাওয়ায় সীমিত সংখ্যক ট্যাক্সি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, তেল সংকটের প্রভাবে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই টার্মিনালগুলোও হারাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য। যেখানে যাত্রীদের ভিড় থাকার কথা, সেখানে এখন ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন অনেকে।

রংপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘জ্বালানি তেল নেই’ নোটিশ, চরম দুর্ভোগ : বিভাগীয় নগরী রংপুরের কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল নেই। ফিলিং স্টেশনগুলো ‘জ্বালানি তেল নেই’ লিখে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, শত শত মোটরসাইকেল বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। গতকাল বুধবার নগরীর অর্ধ শতাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোনো ফিলিং স্টেশনেই তেল নেই। সবখানে শত শত মোটরসাইকেল লাইন ধরে অপেক্ষা করছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, মঙ্গলবার ডিপো থেকে কোনো জ্বালানি তেল সরবরাহ করেনি। ফলে তাদের পক্ষে তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি ডিপোগুলো কবে কখন জ্বালানি সরবরাহ করবে তাও বলছে না। অথচ ট্যাংক-লরিগুলো তেলের জন্য ডিপোতে অবস্থান করছে দুই দিন ধরে। সে কারণে তারা বাধ্য হয়ে তেল নেই বলে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন। এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল আরোহীরা অভিযোগ করেছেন, ‘দুদিন ধরে তেল না পাওয়ায় মোটরসাইকেল চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের তেল আছে বলে প্রচারণা করার কোনো মানে হয় না।’

খুলনার তেল পাম্পে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন : খুলনার বিভিন্ন তেল পাম্পে রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রেতারা তেল নিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় এবং ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বুধবার খুলনার বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

খুলনার পাওয়ার হাউজ মোড়ে মেঘনা ফিলিং স্টেশনে আসা আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি গত দুইদিন অনেক পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফেরত গিয়েছি। গতকাল বুধবার প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম তেল নেওয়ার জন্য। তেল নিয়ে জটিলতা দূর না করলে এই সমস্যা কাটবে না। একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে রোদের কারণে মানুষের কষ্টও হচ্ছে।

বিশ্বরোডে মারিয়া ফিলিং স্টেশনে আসা ক্রেতা সাজিদুর রহমান বলেন, দূরের পথে যাবো এজন্য প্রাইভেটকারে ২৫ লিটার তেল নিয়েছি। আবার সামনে কোনো পাম্প থেকে নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তেল নিতে গিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। তেল টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারলেও সময় তো টাকা দিয়ে ক্রয় করা যায় না।

অপেক্ষারত মোটরসাইকেল চালক পারভেজ আলম বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে আরও ১৫ জন রয়েছে। ঈদের ছটিতে অনেক পাম্প বন্ধ ছিল। তেল নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

মেঘনা ফিলিং স্টেশনের মালিক কাজী গোলাম মাসুদ বলেন, আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল ডিপো থেকে পাচ্ছি না। তেল যতক্ষণ আছে ততক্ষণ ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক দেবো। তিনি আরও বলেন, সকাল ১০টা থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তেল বিক্রয় করছি। তবে তেল বিক্রয় করতে গিয়ে কোনো জটিলাতায় পড়তে হয়নি।

মারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ৯ হাজার লিটার তেল দিচ্ছে ডিপো থেকে। তার মধ্যে পেট্রোল ৩ হাজার, অকটেন ৩ হাজার আর ডিজেল ৩ হাজার লিটার রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিক্রি হলে পাম্প বন্ধ করে দেবো। আবার তেল আসলে তেল বিক্রি শুরু করব। তিনি আরও বলেন, আগে তো চাহিদা অনুযায়ী তেল পেতাম। বিক্রির ওপরে চাহিদা নির্ভর করে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে বিরূপ ধারণা ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের চাঁপ বৃদ্ধি পাওয়াতে সাময়িক একটু ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

নেত্রকোণার ১৮ পাম্পের কোনোটিতেই নেই অকটেন-পেট্রোল : নেত্রকোণায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। জেলার ১৮টি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতে নেই পেট্রোল ও অকটেন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেত্রকোণায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। জেলার কোনো ফিলিং স্টেশনেই নেই পেট্রোল ও অকটেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মোনাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড পাম্পেও পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। এর আগে ঈদের আগ থেকেই অকটেনের সরবরাহ বন্ধ ছিল বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে। গতকাল এই ফিলিং স্টেশনের পেট্রোল শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে পুরো জেলায় পেট্রোল ও অকটেন শূন্য হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি না থাকায় বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালক পাম্পে গিয়ে ফিরে আসছেন জ্বালানি না নিয়েই। এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে যানবাহন নিয়ে বাইরে বের হওয়া মানুষদের। এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, আমরা কিভাবে গাড়ি চালাব এটা বুঝতে পারছি না। সরকার বলেছে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেলের মজুদ রয়েছে। কিন্তু আমরা যে পাম্পেই যাচ্ছি সেখানেই বলছে জ্বালানি নেই। এখন আমরা কি করব এটি বুঝতে পারছি না। আমার তো এই মোটরসাইকেল ছাড়া বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা নেই। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত