ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

৪৫ যাত্রী নিয়ে নদীতে বাস

জীবিত উদ্ধার ১১
৪৫ যাত্রী নিয়ে নদীতে বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নদীর ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে। গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুন থেকে বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুইজনের লাশ উদ্ধার করতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এছাড়াও ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌহার্দ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বুধবার রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, পানির নিচে বাস শনাক্ত করা গেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহযোগিতায় বাসটি উত্তোলনের চেষ্টা করেছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ?‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’

রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই দুই নারীর লাশ রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নামণ্ডঠিকানা জানাতে পারেননি সিভিল সার্জন।

স্বজনদের আহাজারি : নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরির ধাক্কায় পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসে।

ফায়ার সার্ভিস এক বার্তায় জানিয়েছে, ফেরিতে উঠার সময় যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ করছে। এ ছাড়া ঢাকা এবং ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, বিকেল পাঁচটার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া পাঁচটার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

মনির হোসেন আরও জানান, ‘চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল। এরইমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছে। আমরা বাসটি উদ্ধারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি এবং ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছি। এখনও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি।’ বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে তারা এখন ফেরিঘাটে উদ্ধার কার্যক্রমের অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত