ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংকট কাটাতে আড়াই লাখ টন তেল কেনার সিদ্ধান্ত

সংকট কাটাতে আড়াই লাখ টন তেল কেনার সিদ্ধান্ত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ও বাকি ১ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল। গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বাড়ছে দাম। এমন পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের মাধ্যমে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার হবে। এছাড়া এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকের (ইএমকেআই) কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে আরও এক লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর জিটুজি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পি.টি. বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপিজাপিন) ইন্দোনেশিয়া থেকে চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার টন গ্যাস অয়েল শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ ডিজেল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১ লাখ ৯৩ হাজার টন জ্বালানি মজুত আছে : গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট মজুতের পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের মোট মজুতের পরিমাণ এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। তিনি বলেন, আমাদের যে কার্গোগুলো আসে সেগুলো থেকে নিয়মিত খালাস হয়ে একটা ফিগার যুক্ত হতে থাকে। তাই আমরা প্রতিদিন যে যে পরিমাণ সরবরাহ করে থাকি আবার নতুন করে একটা তেল যুক্ত হয়। ডিজেল পাচারের বিষয়ে সরকার সজাগ আছে জানিয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, সরকার এ নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে, এটা যাতে এটা (পাচার রোধ) নিশ্চিত করা হয়। গত ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য মোট ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে জানিয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, অভিযানে মোট ১ হাজার ২৪৪টি মামলা হয়েছে। মোট ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় ও ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এ সময়ে অবৈধভাবে মজুত করা মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার ছিল বলেও জানান মুখপাত্র।

পেট্রোল পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি এই ট্যাগ অফিসাররা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জিনিসগুলো তদারকি করবেন এবং আগের চেয়ে আরও ভালো ব্যবস্থাপনা হবে, ইনশাআল্লাহ।

‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে, আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। আমরা রাত-দিন পরিশ্রম করছি, যেন জ্বালানি খাতে কোনো রকম সমস্যা তৈরি না হয়, যেন মানুষকে শান্তি দিতে পারি।’

দিনে ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান মালিকরা : জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনদুর্ভোগ এখন চরমে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে একই চিত্র- দীর্ঘ লাইন, ক্লান্ত অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চায় মালিকরা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ রাখতে চান পাম্প মালিকরা। গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানায় সংগঠনটি। তারা জানায়, ডিপো থেকে চাহিদামত জ্বালানি পাচ্ছে না ফিলিং স্টেশনগুলো। এমন অবস্থায় রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ রাখতে চান।

সভায় পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা। অনেক ক্ষেত্রে ট্যাংকার পুরোপুরি ভর্তি না করে আংশিক লোড নিয়ে পাঠানো হলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং এতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে তারা চেম্বার পূর্ণ করে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে পরিবহন ব্যয় কমানো যায় এবং সরবরাহ আরও কার্যকর হয়।

এ সময় একই জেলার একাধিক পাম্পে একসঙ্গে সরবরাহের ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে অননুমোদিতভাবে তেল বিক্রি বা মজুত করার ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সেটি পুরো খাতের প্রতিনিধিত্ব করে না।

মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩০ হাজার টন ডিজেল : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসে বন্দরে ভিড়েছে ৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজ। গতকাল মঙ্গলবার মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পৌঁছেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানি খালাস হবে। প্রয়োজনে জাহাজটিকে ডলফিন জেটিতে ভিড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এছাড়া বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ৪ এপ্রিল আরও একটি জাহাজ ভিড়তে পারে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল বিক্রি না করতে পেট্রোলপাম্প মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে এ বিষয়ে প্রচারণা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র না থাকলে অকটেন বিক্রি করা যাবে না বলে মাইকিং করা হচ্ছে। অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও চালকদের লাইসেন্সের পাশাপাশি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে। বিষয়টি থানা পুলিশ ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তদারকি করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর থেকে দেশের বাজারে তেল সংকট নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করলে গত ৬ মার্চ থেকে সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে ঈদ সামনে রেখে ১৪ মার্চ সেই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়।

এক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফুয়েল পাস : জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনা ও মজুত রোধে এক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাস চালু হচ্ছে। গত সোমবার সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।

সরকার ফুয়েল পাস চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এটি কবে নাগাদ চালু হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে একটা অ্যাপ ডেভেলপ করছি। আমরা এটা হয়তো সপ্তাহ খানেকের মধ্যে দুই একটি জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করব। আর জেলায় জেলা প্রশাসন কেউ কেউ তাদের মতো করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এটি চালু করেছে।

যুগ্মসচিব বলেন, যেহেতু এ কাজ একটু কঠিন, কারণ আমি চাইলে সহজেই এতগুলো মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসতে পারব না একটি ছাতার নিচে। তাই আমরা হয়তো কোনো সুনির্দিষ্ট যানবাহনকে লক্ষ্য করে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে (ফুয়েল পাস চালু) যেতে পারব।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় হোম অফিস করা কিংবা ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে আপনারা সুপারিশ করছেন কি না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম সচিব বলেন, যার কাছে যে কথাগুলো আমরা পাচ্ছি আমরা নোট নিচ্ছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা হচ্ছে। যখনই সবগুলো মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে আপনারা জেনে যাবেন, ইনশা আল্লাহ।

অবৈধ মজুতকৃত প্রায় ৩ লাখ লিটার জ্বালানি উদ্ধার : সারা দেশে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত প্রায় ৩ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গত ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে এ সব জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার ও পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ মজুত, পাচার ও সরবরাহে কৃত্রিমসংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় জ্বালানি বিভাগ। বিভাগটি আরও জানায়, বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা ও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

২৪ ঘণ্টায় ৮৮ হাজার লিটার অবৈধ মজুত জ্বালানি তেল উদ্ধার : সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত প্রায় ৮৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬ হাজার ৪৪৪ লিটার অকটেন এবং ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার পেট্রোল রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধ এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গত এক দিনে সারা দেশে মোট ৩৯১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা করা হয় এবং ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অভিযানে অনিয়মের দায়ে সাতক্ষীরায় একজনকে ২ মাস, চাঁদপুরে একজনকে ১ বছর এবং গাজীপুরে একজনকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত তদারকি করছেন। কোথাও কোনো সন্দেহজনক মজুত বা অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিজিলেন্স টিমের নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ক্যাবের ১৩ দাবি : জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যুব সংসদ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে গোলটেবিল আলোচনায় এই ১৩ দফা দাবি উত্তাপন করা হয়।

ক্যাবের ১৩ দফা দাবি : ১. বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত থেকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ কস্ট প্লাস নয়, কস্ট ভিত্তিক নিশ্চিত করা। ২. জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি গড়ে বর্তমান সরকারের ৫ বছর মেয়াদে কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমানো নিশ্চিত করা। ৩. সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধি দ্বারা ওই ৫ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং ছোট শিল্প হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া। ৪. এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ৫ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা। ৫. গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গণশুনানির ভিত্তিতে স্থলভাগের শতভাগ গ্যাস বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা। ৬. গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা-দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত মজুত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা। ৭. আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করানো এবং আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা। ৮. ‘স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪’ এর অন্তর্ভুক্ত ২(ক) এবং ২(খ) অনুচ্ছেদ বাতিলের জন্য ক্যাবের দায়েরকৃত রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউক্রমে লাইসেন্স বাতিলসহ সব ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা। ৯. ওই সব চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে আদায় নিশ্চিত করা। ১০. জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা। ১১. (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজির বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০ শতাংশ আমদানি ও স্টোরেজ ক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ১২. বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসির বিরুদ্ধে আনিত ক্যাবের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সেই সঙ্গে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং ১৩. আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত