ঢাকা রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ক্লাসরুম ও পরীক্ষাকেন্দ্রে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা

ক্লাসরুম ও পরীক্ষাকেন্দ্রে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন ঘরে বসে পুরো পৃথিবী দেখা গেলে পরীক্ষাকেন্দ্রও দেখা সম্ভব। এ জন্য শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগারি শিক্ষা বোর্ডের রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী তার আগের মেয়াদে নকল বন্ধ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি তো আমেরিকা থেকে শিক্ষক ইমপোর্ট করে নকল বন্ধ করিনি। আপনাদের মাধ্যমেই তো করেছি, নাকি? এটা প্রমাণিত সত্য যে, সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে শিক্ষকরা সহযোগিতা করেন। সরকারের যদি সহযোগিতা না থাকে, শিক্ষকরা সহযোগিতা করে না। তাই আমার বিশ্বাস- আমার শিক্ষকরা আবার আগের অবস্থানে যাবেন, শিক্ষার পরিবেশ ফেরাবেন।

তিনি বলেন, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বা অন্য কিছু, এগুলোর জন্য তো আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এবার বেশি কিছু করার দরকার নেই। সিম্পলি আমরা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কথা বলেছি। এটা কিন্তু শুধু পরীক্ষার জন্য না। এ ব্যাপারে ভুল বোঝা যাবে না। আজকে পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করল, ঠিকমতো ক্লাশ হয় না। আবার শিক্ষকরা অভিযোগ করলেন, ছাত্ররা ঠিকমতো ক্লাসে আসে না। ওকে ফাইন। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগাবেন। রেকর্ডিং থাকবে হাতে। আমি ক্লাশগুলো দেখব শিক্ষকরা কী করেন, ছাত্ররা কী করে। কারণ আমাদের তো মনিটরিং করতেই হবে, কোনো বিকল্প নেই। এহছানুল হক মিলন বলেন, এজন্য আমরা বলেছি প্রতিটি ক্লাসরুমে ক্যামেরা পদ্ধতি থাকতে হবে। তাহলে ঢাকায় বসে বা রাজশাহী বসে বোর্ড ক্লাশগুলো দেখতে পারবে যে, ঠিকমতো ক্লাশ হচ্ছে কিনা। এখন এ কথা শুনে অনেকে বলছে, ছাত্র-ছাত্রীদের ঘাড় ঘোরাতে দেওয়া যাবে না। কেন? রিল্যাক্স। ঘাড় ঘোরাতে পারবে না এটা তো কোনো কথা না। আমরা বলেছি, ক্লাশরুমে উপস্থিতি থাকে কিনা। শিক্ষক ঠিকমতো আসেন কিনা, ছাত্র ঠিকমতো মনোযোগ দেয় কিনা- এগুলোকে আমরা বিবেচনায় আনব। সেইসঙ্গে পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা থাকবে, তাহলে আমাদের চিন্তা কমে গেল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তো সেই আগের দিন নেই যে, হঠাৎ করে হেলিকপ্টার নিয়ে হাজির হতে হবে। সেই দিন তো আর নেই। আমি ঘরে বসে যদি পৃথিবী দেখতে পারি, ঘরে বসে আমি ক্লাশরুম দেখতে পারব না কেন? আবার প্রশ্ন উঠেছে- খালেদা জিয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটা ক্লাশরুম দেখতে গিয়েছেন। আমাকে সেখানে যেতে হবে কেন?

শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাজেটে শিক্ষাখাতে পাঁচ পার্সেন্ট দেবেন। হিউজ অ্যামাউন্ট কিন্তু পাঁচ পার্সেন্ট। এই তো গত বাজেটেই দেখলাম টাকা ফেরত যাচ্ছে। কাজে লাগাতে পারছে না। আমি এসে পাঁচ পার্সেন্ট, প্রায় ডাবল হয়ে যাবে বাজেট। এই টাকা কি খরচ করতে পারব? পারব না। তাই আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতের বাজেট বৃদ্ধি করতে চাই।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা প্রমুখ।

এর আগে সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ ওসমান বিন হাদি মিলনায়তনে আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন মন্ত্রী।

এ সময় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল। কারও বাঁচার উপায় নেই। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী গতানুগতিক বক্তব্য না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকটের কথা শোনেন। এ সময় পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাশ হয় না, হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ নেই, ল্যাবের যন্ত্রপাতি সব পুরোনোসহ নানা অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত