ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবিতে ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির প্রাণহানির শঙ্কা : আইওএম

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবিতে ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির প্রাণহানির শঙ্কা : আইওএম

আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বহনকারী একটি ট্রলারডুবে প্রায় ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। গত বুধবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জানা গেছে, ট্রলারটি দক্ষিণ বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। গত ৯ এপ্রিল প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। আইওএমণ্ডএর মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আবুনাজেলা বলেন, ‘নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় মানুষ যখন সমুদ্রপথে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় নামে, তখন তাদের কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়, এই ঘটনা তারই একটি কঠোর নমুনা। জীবন বাঁচাতে কাউকে যেন এমন মরণপণ পথ বেছে নিতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

সাম্প্রতিক এই নৌকাডুবির ঘটনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের ঘাটতিকে আবারও সামনে এনেছে। আইওএমণ্ডএর মতে, শরণার্থী শিবিরগুলোর শোচনীয় জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে জীবিকার সুযোগের অভাব, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার কারণেই মানুষ এমন বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে। পাচারকারী চক্র এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মুনাফা লুটছে, যা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি উভয় পক্ষকেই চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে যাত্রা করেছিলেন, যাদের মধ্যে ৮৯০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ২০২৪ সালের তুলনায় (৫৯৮ জন) ২০২৫ সালে (৮৬০ জন) মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার হার ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আইওএম বলছে, সাগরে বিপদাপন্নদের উদ্ধার করা একটি মানবিক দায়িত্ব। সংস্থাটি এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। তহবিলের সংকট থাকা সত্ত্বেও আইওএম ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান এবং পাচার রোধে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের শরণার্থী ও স্থানীয়দের জন্য অর্থায়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত