
মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় তিনি মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য, মা-বোনেরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি মেট্রিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শহীদ জিয়ার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। এই বিএনপি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। বিএনপি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ পূরণ করতে চায়। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- ইনশাআল্লাহ মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব। যাতে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে। শুধু তাই নয়, যে সকল মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের আমরা সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বাংলাদেশে মসজিদগুলোর কথাই বলুন, মাদরাসার কথা বলুন বা অন্য ধর্মের যেসব উপাসনালয় আছে, সেখানে যে সকল ব্যক্তিবর্গ আছেন- ধর্মীয় গুরু বা মসজিদের ইমাম বা খতিব বা মুয়াজ্জিন সাহেব যারা আছেন, এই মানুষগুলো অনেকেই আছেন মানবেতর জীবনযাপন করেন। আমরা বলেছিলাম আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে এই মানুষগুলোর জন্য সম্মানের ব্যবস্থা করব। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে সেই কাজও আমরা শুরু করেছি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করব- এই প্রতিশ্রুতি আমরা সরকার গঠনের প্রথম সাত থেকে ১০ দিনের মাথায় বাস্তবায়ন করেছি। সারা বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা ইনশাআল্লাহ পাবে। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই, যাতে কৃষক ভাইয়েরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে দাঁড়াতে পারে- এজন্য আমরা কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম। সেই কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজও ইনশাআল্লাহ আমরা শুরু করেছি।
বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বহু তরুণ- ছেলে হোক মেয়ে হোক, বেকার হয়ে বসে আছে। তাদের হয়তো শিক্ষা আছে; কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। আমরা বলেছিলাম বন্ধ কল-কারখানাগুলো চালু করার ব্যবস্থা করব। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বহু বন্ধ কল-কারখানা আমরা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চালু করার ব্যবস্থা করব।
বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের জনশক্তি যাওয়া কমে গিয়েছে অথবা বন্ধ আছে। আমরা বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুত সেই দেশগুলোতে আমাদের মানুষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে যেতে পারবে।
খাল খনন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত করেছি যে সমগ্র বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ইনশাআল্লাহ ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। কারণ এই খালের পানি কৃষক সেচের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। বাংলাদেশের মাটি আল্লাহতায়ালা এত উর্বর করে দিয়েছেন যে, সঠিক সময়ে পানিটাও দেওয়া যায় তাহলেই সুন্দর ফসল উৎপন্ন হয়। খালগুলো খনন করতে পারলে আশপাশের মানুষ মাছ চাষ করতে পারবে, হাঁস পালন করতে পারবে এবং খালের দুইপাশে বৃক্ষরোপণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
ক্রীড়া উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মাসে দুই তারিখে আমি সিলেট যাচ্ছি। সেখান থেকে আমরা সমগ্র বাংলাদেশে নতুন ও পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির কাজ শুরু করব। এর মধ্যে যারা পেশাদার খেলোয়াড় এ রকম ৫০০ খেলোয়াড়কে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এখন গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গতকাল দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলসী খালের পাড়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে জুলাই সনদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, যদি তারা এটা করতে না পারে, তবে জনগণের জন্য নেওয়া সমস্ত কর্মসূচি যেমন- নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বন্ধ মিল কারখানা চালুর যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে তারা ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।
দেশের অগ্রগতি যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে জনগণকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ ধাপে ধাপে এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জনগণ এরমধ্যেই প্রমাণ করেছে- তারা তাদের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা মেনে নেয় না। যেভাবে জনগণ ৫ আগস্ট উপযুক্ত জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও কেউ তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে চাইলে তারা একইভাবে জবাব দেবে।’
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের শপথ নিতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজ বসে থাকলে চলবে না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে হবে, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজকে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লাগাতে হবে, তাহলেই এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গত ৫০ বছর পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে, পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, যেই সিঙ্গাপুরকে নিয়ে আমরা মাঝেমধ্যে গল্প করি, সেই সিঙ্গাপুরের অবস্থা ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ ছিল। আজ ৫০ বছরে তারা কোথায় চলে গিয়েছে! তারা যদি পারে আমরা কেন পারব না? ইনশাআল্লাহ আমরাও পারব। এই দেশের মানুষ পারবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল। মনে আছে আপনাদের ১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখনও আবার সেই ভূত আরেকজনের কাঁধে গিয়ে আছর করেছে, আপনাদের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
বাবার স্মৃতি বিজড়িত উলসী খাল পুনঃখনন করলেন তারেক রহমান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শা এলাকায় কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে ঐতিহাসিক উলসী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে খাল খনন স্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এসেই খালের উপরের অংশে নির্মিত উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শার উলসী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করেছিলেন যা ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত।
উদ্বোধন করা ফলকে লেখা আছে, ‘যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলসী খাল (জিয়ার খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী.. ২৭ এপ্রিল, ২০২৬।’ এর ঠিক পাশের ফলকে লেখা আছে, ‘গণযোগ’ উলসী-যদুনাথপু-বেতনা নদী সংযোগের প্রকল্প। দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক গণউপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উদ্বোধন করলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, ‘উলসী গ্রাম, যশোহর’। ১ নভেম্বর ১৯৭৬।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর খালকাটা কর্মসূচিকে ঘিরে শার্শা ও তার আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে ভোর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। সবার হাতে ছিল গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুল। চোখে মুখে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রী খালে নেমেই প্রথমে চারপাশে অপেক্ষায় থাকা মানুষজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তারা থেমে থেমে উচ্চঃস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।
এলাকাবাসী বলছেন, খাল খননের ফলে তাদের পানির সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া ভবিষ্যতে সেচ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী : আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের চাচড়া এলাকার হরিণার বিলে হাসপাতালের এই ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই ভবনটি নির্মাণ করছে।
জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করলে আমাদের জন্য পুরো বিষয়টি সহজ হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো- এই কাজগুলোকে এমনভাবে সামনে নিয়ে যাওয়া, যাতে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা সহজেই তাদের ঘরে পৌঁছে দিতে পারি। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা।