
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে নুসরাতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। এর আগে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম। গত ২২ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে একই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত করে ইসি। আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে ২২ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেছিল কমিশন।
আপিলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি মনিরা শারমিন, বহাল জীবা আমিনের : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিন। তার প্রার্থিতা বাতিলের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জীবা আমিন খানের মনোনয়নের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন গ্রহণ করেননি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির প্রথম দিন শেষে এ তথ্য জানা গেছে। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ইসি। এর ফলে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলই থাকছে। অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জীবা আমিন খানের মনোনয়নের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন গ্রহণ করেননি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে জীবা আমিনের প্রার্থিতা বহাল থাকছে। এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাধবী মার্মার মনোনয়নের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইসি।
আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তার মনোনয়ন বাতিল থাকলো। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মনিরা শারমিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা হাইকোর্টে এটার জন্য রিট করবো। আমি চাই না, আইনের অস্পষ্টতার জন্য নারীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব এবং নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আসলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জীবা আমিন খানের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, জীবা আমিন খানের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনটি যথাযথ হয়নি। আপিলকারী প্রার্থী না হওয়ায় ওই আপিল আবেদন খারিজ করা হয়েছে। ফলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকবে। বিএনপি মনোনীত আরেক প্রার্থী মাধবী মার্মার মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন চন্দ্রা চাকমা। আজ ইসিতে এই আপিল নিয়ে শুনানি হয়। তবে আপিল আবেদন খারিজ হয় বলে জানান চন্দ্রা চাকমা। ফলে মাধবী মার্মার মনোনয়নপত্র বৈধ থাকলো। শুনানি শেষে চন্দ্রা চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, শুনানিতে বলা হয়েছে, আপিল আবেদনকারীকে সংক্ষুদ্ধ প্রার্থী হতে হবে, ব্যক্তি না। এটা আইনে আছে বলে আমাকে বলা হয়েছে। এটার কারণে আমার করা আপিলটি গ্রহণ হয়নি। এখন আমরা হাইকোর্টে যাবো।