
দেশে গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৫১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ১৩১ জেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ২৮ জন।
১৫ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ হাজার ১৫৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২১ হাজার ৭৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই জনসহ, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪৯ জনের এবং সন্দেহজনক হামে ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৬ হাজার ৮২১ জন হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৩ জন।
হাম পরিস্থিতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে, আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া হাম মোকাবিলায় টিকা ও মানবসম্পদসহ কোনো কিছুতেই সংকট নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। কাজেই শিগগিরই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে পাওয়া যক্ষ্মা পরীক্ষার কিট (জিনএক্সপার্ট কার্ট্রিজ) ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ৬ লাখ ‘জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ’ ও শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মার (টিবি) ওষুধ হস্তান্তর করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এর ফলে কিছু কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন।