ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ

* প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতির সঞ্চার হবে : হুমায়ুন কবির * প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আজ একথা জানান। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময়সূচি দুই সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানান, বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। সৌদি আরবকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতির সঞ্চার হবে - হুমায়ুন কবির : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সৌদি আরব সফর কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীরতর করার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ’র সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠক চলাকালে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পক্ষ থেকে সৌদি আরব সফরের একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর কাছে যুবরাজের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং জানান, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরো জোরদার করব। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে খুব ভালো মন্তব্য করে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব স্থাপনের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের আগ্রহ থাকায় দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। পারস্পরিক আমন্ত্রণ বিনিময়কে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরবে আমন্ত্রণ জানানো এবং সৌদি যুবরাজের বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ দুই দেশের পারস্পরিক এই সম্পর্ককে উভয় পক্ষের দেওয়া গুরুত্বকেই তুলে ধরে। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, দুই সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর অথবা যুবরাজের বাংলাদেশ সফরের মধ্যে কোনটি আগে হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি এখনও নির্ধারিত হয়নি। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আমরা এসব বিষয় চূড়ান্ত করব। হুমায়ুন কবির বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রতি এই পারস্পরিক আগ্রহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই দু’টি দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। আমরা সৌদি আরবকে শুধু দ্বিপক্ষীয় অংশীদার নয়, বরং অত্যন্ত ভ্রাতৃপ্রতিম অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি। কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গত চার মাসে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শক্তিশালী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তিনি জানান, যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে বিশেষ দূত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ফলে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রতি সদিচ্ছার ব্যাপক সুনাম তৈরি করেছিল।

হুমায়ুন কবির বলেন, সেই সদিচ্ছাই এখন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব তাদের কৌশলগত যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড। গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা হ্রাস এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। পরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং আইএপিবি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত