ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শিক্ষক থেকে বঙ্গভবনে

শিক্ষক থেকে বঙ্গভবনে

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ১৬৭ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা ফখরুল।

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। এর আগে তিনি ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে আলমগীরকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আলমগীর তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন।

মির্জা ফখরুল ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন তার রাজনৈতিক অভিযান শুরু করেন। সেই সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগদান করেন। তিনি সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান তুঙ্গে ওঠার সময় সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানো হয়।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুলকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণকারী ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (শিক্ষা ক্যাডারের) সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে সফল শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্য সরকারি দায়িত্বের মধ্যে, তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকায় একটি বীমা কম্পানিতে কর্মরত। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ এবং মির্জা সাফারুহ। শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি একটি স্বনামধন্য স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি পদে আছেন। তিনিও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র ছিলেন।

তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ছিলেন। ঠাকুরগাঁও নির্বাচনি এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির রাজনীতিবিদ, যিনি ভূমিমন্ত্রী (১৯৭৮-৭৯), আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী (১৯৯১-৯৬) এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার (১৯৭৯-৮২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মির্জা হাফিজ ১৯৭৯ সালে ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুলের আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের এপ্রিলে গঠিত মুজিবনগর প্রবাস সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা তদারকির জন্য নবগঠিত যুব শিবির অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত