
আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দু-একটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরে ধাপে ধাপে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে শাহজালালের যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় চারগুণ বাড়বে এবং সর্বোচ্চ ২৫০টি এয়ারক্রাফট পরিচালনার অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি হবে। গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান বিমানমন্ত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নাম পরিবর্তনের বদলে তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রী বলেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার পর এই প্রকল্পের রাজস্বে বাংলাদেশের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
যাত্রীসেবার মান নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিমান অবতরণের ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছানো নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ব্যর্থতায় সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। থার্ড টার্মিনালের ৫০ শতাংশ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, উন্নত অবকাঠামোর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফুটে উঠবে। পরিদর্শনের সময় বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।